শুক্রবার, ৩রা এপ্রিল, ২০২৬, ২০শে চৈত্র, ১৪৩২

ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও ডুগ্ধজাত পণ্যের বাজার স্থিতিশীল, উৎপাদন বাড়ছে

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বিশ্বব্যাপী জাহাজ চলাচল ও লজিস্টিক খরচের বৃদ্ধির প্রভাব গভীরভাবে পরিদৃষ্ট হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তনের সংকেত পাওয়া যাচ্ছে, যা মূলত পণ্য পরিবহন ব্যয়ের বৃদ্ধি ও বিশ্বজুড়ে চাহিদার ধরনে পরিবর্তনের কারণে ঘটছে। তবে এই কঠিন পরিস্থিতিতেওবর্তমানে বাংলাদেশের ডেইরি পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানানো হচ্ছে।

বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিশেষজ্ঞরা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও লজিস্টিক শৃঙ্খলার ঝুঁকিকে এই পরিস্থিতির মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে লোহিত সাগর ও সংলগ্ন এলাকাগুলিতে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি বেড়ে গেছে, যার ফলে বীমা ও পরিবহন খরচ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেক কোম্পানি দীর্ঘ পথ পেরিয়ে পণ্য পরিবহন করতে বাধ্য হওয়ায় খরচার পরিমাণ অনেক বেশি হয়েছে। কিছু দেশ যেমন নিউজিল্যান্ড ভৌগোলিক কারনে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পণ্য পৌঁছাতে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও, তারাও পরোক্ষভাবে খরচের চাপ অনুভব করছে।

সম্প্রতি ৪০০তম গ্লোবাল ডেইরি ট্রেড (জিডিটি) নিলামের রিপোর্টে জানানো হয়েছে, খরচ বাড়ার পরও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য ও দক্ষিণ এশিকার দেশগুলিতে দুগ্ধজাত পণ্যে ক্রমবর্ধমান চাহিদা দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ডে গত ফেব্রুয়ারিতে দুধ উৎপাদনের নতুন রেকর্ড হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৭.৪ শতাংশ বেশি। এর পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রে দুধের উৎপাদন প্রায় ২.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দেশটিতে বর্তমানে গবাদি পশুর সংখ্যা ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। আর্জেন্টিনাও দুধের উৎপাদন ১০.৬ শতাংশ বাড়িয়েছে।

তালিকায় দেখা গেছে, ৩৯৯তম জিডিটি নিলামে বাজারে দুগ্ধজাত পণ্য সরবরাহ বাড়লেও চাহিদা তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী ছিল। বিশেষ করে ননি ছাড়া গুঁড়ো দুধ (এসএমপি), মাখন ও মোজারেলা পনিরের দাম ও চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে সরবরাহ সংকটের কারণে ননি মুক্ত গুঁড়ো দুধের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশ্বব্যাপী প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারের প্রতি বাড়ির আগ্রহ বৃদ্ধি পাওয়ায়, এই বাজারে চাঙ্গাপনা অব্যাহত রয়েছে।

অবশ্য, রফতানি বাড়লেও কিছু দেশ, যেমন নিউজিল্যান্ডের আয় কমছে। দেশের রফতানি বাড়লেও, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আয়ের হার প্রায় ২.৮% কমে গেছে, যার প্রধান কারণ হচ্ছে পণ্যের দাম শুরুতেই কমে যাওয়া। অন্যদিকে, চীন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় আমদানিকারক, তার আমদানির পরিমাণ প্রায় ১৩.৭% কমিয়ে দিয়েছে। তার বিপরীতে, যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি বেড়েছে ১০.৭%, এবং ইউরোপীয় দেশগুলোও রফতানি বাণিজ্য থেকে বেশ লাভবান হচ্ছে। তবে, অস্ট্রেলিয়ার বাজারে রফতানি ও আয়ের ক্ষেত্রে বড় ধস দেখা দিয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য আগামী দিনগুলোতে বাজারে অনিশ্চয়তা বজায় রাখবে। পরিবহন ও বীমা খরচ বৃদ্ধির ফলে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর চাপ বাড়বে। তবে ভালো খবর হলো, উচ্চ দামের থাকাকালীনও বিশ্ববাজারে দুগ্ধজাত পণ্যের চাহিদা কমেনি, যা বাজারের ভারসাম্য রক্ষা করছে। নিউজিল্যান্ডের বিশ্ববিখ্যাত ডেইরি সংস্থা ফনটেরা ইতিমধ্যে কৃষকদের জন্য দুধের দাম বাড়ানোর পূর্বাভাস দিয়েছে। সামগ্রিকভাবে, এই বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের কারণে দুগ্ধজাত পণ্যের বাজার এখন অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন