রবিবার, ৫ই এপ্রিল, ২০২৬, ২২শে চৈত্র, ১৪৩২

রেমিট্যান্স বৃদ্ধি পেলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হলো

দেশের অর্থনীতিতে নতুন আশার আলো জ্বলছে, কারণ প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহ দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও শক্তিশালী অবস্থানে চলে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের মোট গ্লোবাল রিজার্ভ অর্জন করেছে ৩৪.৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বেশ প্রশংসনীয় বিষয়। মূল কারণ হলো বৈধ পথে রেমিট্যান্সের প্রবাহের বিস্তার এবং প্রবাসীরা পাঠানো অর্থের সংখ্যা রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছানো। এই দুর্দান্ত পরিবর্তনের ফলে দেশের অর্থনৈতিক চিত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটছে।

বিশ্লেষকদের মতে, গত মার্চ মাসে প্রবাসীরা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে নতুন উচ্চতায় রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। এক মাসের মধ্যেই প্রবাসীরা প্রায় ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন, যা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা। এই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হওয়ার ফলে দ্রুত রিজার্ভের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ১ এপ্রিল পর্যন্ত যেখানে রিজার্ভ ছিল ৩৪.২৫ বিলিয়ন ডলার, একদিনের ব্যবধানে তা বেড়ে ৩৪.৪৩ বিলিয়নে পৌঁছে গেছে।

অন্তর্জাতিক মানদণ্ড বা আইএমএফ-এর বিপিএম-৬ (BPM6) পদ্ধতিগত হিসাব অনুযায়ীও দেশটির রিজার্ভের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পদ্ধতিতে সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৯.৮১ বিলিয়ন ডলার, যা ১ এপ্রিলের চেয়ে ২০ কোটি ডলার বেশি। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে Liquidity বা তারল্য সংকট কমে আসছে বলে প্রত্যাশা করছেন অর্থনীতিবীদরা।

বিশ্ববাজারের অস্থিরতা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান আরব যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও বাংলাদেশের রিজার্ভের এই উচ্চমুখী প্রবণতা একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত জয়। যদি ভবিষ্যতেও রেমিট্যান্স প্রবাহ এতটাই অব্যাহত থাকে, তবে দেশের তুলনামূলক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা ও উচ্চমূল্যের আমদানির ব্যয় নির্বাহ সহজ হবে। এর ফলে সামষ্টিক অর্থনৈতিক অবস্থা আরও সুদৃঢ় হবে, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা দেবে এবং দেশের আন্তর্জাতিক আর্থিক সক্ষমতা ও ভাবমূর্তিকে আরও উন্নত করবে বলে অভিমত বিশেষজ্ঞদের।

পোস্টটি শেয়ার করুন