শনিবার, ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৬, ২১শে চৈত্র, ১৪৩২

রাজধানীর মাছের বাজারে অস্বস্তি: ২০০ টাকার নিচে কোনো মাছই মিলছে না

পবিত্র ঈদুল ফিতর উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন বাজারের পরিস্থিতি এখনও স্বস্তিপূর্ণ নয়। রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম উচ্চাবচে থাকায় সাধারণ ক্রেতাদের জন্য জীবনযাপন আরও কঠিন হয়ে উঠছে। বিশেষ করে মাছের বাজারে গিয়ে নিম্ন এবং মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রেতারা বেশ কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন। বর্তমানে বাজারে কোনও ধরণের মাছই কেজিতে ২০০ টাকার নিচে বিক্রি হচ্ছে না। মাছের পাশাপাশি মাংসের বাজারেও দাম আকাশছোঁয়া থাকায় সাধারণ মানুষের জন্য জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়ছে, যাদের জন্য এটি বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে মোহাম্মদপুর টাউন হল ও রায়েরবাজারসহ রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, সব থেকে সস্তা বলে পরিচিত পাঙ্গাশ মাছও এখন কেজিতে ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তেলাপিয়া ২৩0 টাকা, রুই মাছের দাম আকারভেদে ২৪0 থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে। দেশি মাছের মধ্যে টেংরা ৬০০ টাকা, বেলে ৩৫০ টাকা এবং বাইন মাছ কেজিতে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ির দাম সবচেয়ে বেশি; আকারভেদে এক কেজি চিংড়ি কিনতে ক্রেতাদের খরচ হয়ে যাচ্ছে ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকা। অন্যান্য মাছের মধ্যে পাবদা ৩৫০ টাকা, শিং ও কই ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, এবং শোল মাছ ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের এই উচ্চমূল্যের বিষয়ে রায়েরবাজারের মাছ ব্যবসায়ী সৌরভ আহমেদ দাবি করেন, ঈদের পরে মাছের বাজার কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছিল, তবে সাধারণ মানুষের জন্য তা এখনও খুবই ব্যয়বহুল। তিনি বলেন, সরবরাহের ঘাটতি ও চাহিদার কারণে বাজারে মাছের দাম নিয়মিত ওঠানামা করছে, কিন্তু ক্রেতারা বলছেন, এখন কোনও মাছই ২০০ টাকার নিচে পেতে הם ব্যর্থ। এটি তাদের জন্য একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিজনেস বিষয়ক বিশ্লেষকরা বলছেন, ঈদের পরে বাজারে নিয়ন্ত্রণের জন্য কঠোর তদারকি না থাকায় বিক্রেতারা নিজের ইচ্ছামতো দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। সাধারণ মানুষের পক্ষে এখন মাছ ও মাংস কেনাকাটা করাটা অনেকটাই কষ্টের। সরকারের দ্রুত উদ্যোগ ও কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া না হলে, নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য প্রতিদিনের খাদ্য তালিকা সংকুচিত হয়ে পড়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।

অন্যদিকে, গরুর মাংসের দাম স্থিতিশীল থাকলেও বেশির ভাগ বাজারে এই উচ্চমূল্যই বহাল রয়েছে। বেশীরভাগ বাজারে গরুর মাংসের কেজির দাম ৮০০ টাকা, যা দীর্ঘদিন থেকে অপরিবর্তিত।

সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, ঈদের জন্য বাড়তি চাহিদার কারণে কিছু পণ্যের দাম বেড়েছিল, তবে উৎসব শেষে সেটি স্বাভাবিক অর্থাৎ আগের মতো হলেও এখনো বাজারের দাম অনেকটাই বেশি। ক্রেতা শফিকুল আলম বলছেন, ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা কমে গেলেও সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি এখনো অসহায় মানুষের জন্য অস্বস্তির কারণ। তিনি বলেন, সোনালি মুরগি বা বড় মাছ এখন বেশিরভাগ পরিবারের কল্পনার মধ্যে পড়ে গেছে।

বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উৎসব পরবর্তী সময়ে বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে কঠোর তদারকি ও পর্যাপ্ত মনিটরিং না থাকার কারণে বিক্রেতারা নিজের ইচ্ছামতো দামে বিক্রি করছেন। সাধারণ মানুষের পুষ্টি ও প্রোটিন চাহিদা মেটাতে মাছ ও মাংসের দাম নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া খুবই জরুরি, না হলে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো প্রতিদিনের খাদ্য তালিকা থেকে অনেক পণ্যই বাদ দিতে বাধ্য হবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন