হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে প্রায় এক মাস মাঠের বাইরে থাকার পর রাজকীয় কায়দায়
ফুটবল ময়দানে প্রত্যাবর্তন করলেন পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তাঁর
দুর্দান্ত জোড়া গোলের ওপর ভর করে সৌদি প্রো লিগে আল নাজমাকে ৫-২ ব্যবধানে বিধ্বস্ত
করেছে আল নাসর। গত শুক্রবার রাতে কিং ফাহাদ ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই
ম্যাচে সিআরসেভেনের এমন বিধ্বংসী ফর্ম ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে কেবল আল নাসর নয়, বরং
পর্তুগাল জাতীয় দলের দুশ্চিন্তারও অবসান ঘটিয়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর মাঠে ফিরে ৮৩
মিনিট পর্যন্ত খেলে রোনালদো প্রমাণ করেছেন যে, বয়স কেবলই একটি সংখ্যা মাত্র।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য আল নাসরের জন্য খুব একটা সুখকর ছিল না। ৪৪ মিনিটে রাকান
আলতুলাইহির গোলে সবাইকে চমকে দিয়ে লিড নেয় টেবিলের তলানিতে থাকা আল নাজমা। তবে
পিছিয়ে পড়ে দমে না গিয়ে পাল্টা আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে স্বাগতিকরা। প্রথমার্ধের যোগ
করা সময়ের অষ্টম মিনিটে আব্দুল্লাহ আল হামদানের গোলে সমতায় ফেরে আল নাসর। এর মাত্র
এক মিনিট পরেই সেনেগালিজ তারকা সাদিও মানে স্কোরশিটে নাম লিখিয়ে দলকে ২-১ ব্যবধানে
এগিয়ে দেন। বিরতির পর আল নাজমার ফিলিপ কার্ডোসো গোল করে আবারও সমতা ফেরালেও এরপরই
শুরু হয় রোনালদো শো।
ম্যাচের ৫৬ মিনিটে দুর্দান্ত এক শটে নিজের প্রত্যাবর্তনের প্রথম গোলটি পান রোনালদো।
এরপর ৭৩ মিনিটে পেনাল্টি থেকে অত্যন্ত শীতল মাথায় সফল লক্ষ্যভেদে নিজের ব্যক্তিগত
দ্বিতীয় গোলটি পূর্ণ করেন তিনি। এর মাধ্যমেই পেশাদার ক্যারিয়ারের মোট গোল সংখ্যাকে
৯৬৭-তে নিয়ে গেলেন এই মহাতারকা। ১০০০ গোলের ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করার লক্ষ্য
নিয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে ৯৫ মিনিটে সাদিও
মানে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করলে আল নাসরের ৫-২ ব্যবধানের বিশাল জয় নিশ্চিত হয়। এই
জয়ের ফলে ২৭ ম্যাচে ৭০ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত
করল আল নাসর, যা তাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আল হিলালের চেয়ে এখন ৬ পয়েন্ট বেশি।
মাঠে ফেরা নিয়ে নিজের উচ্ছ্বাস লুকাননি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ম্যাচ শেষে সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্টের মাধ্যমে তিনি তাঁর স্বস্তির কথা
জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, আবারও সবুজ চত্বরে ফিরতে পেরে তাঁর দারুণ লাগছে এবং পুরো
দল নিয়ে তিনি সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চান। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আল নাসরে যোগ
দেওয়ার পর ব্যক্তিগত অনেক রেকর্ড গড়লেও এখন পর্যন্ত কোনো বড় ট্রফি জেতা হয়নি
রোনালদোর। তবে বর্তমান ফর্ম ও পয়েন্ট টেবিলের চিত্র বলে দিচ্ছে, এবার হয়তো সেই
আক্ষেপ ঘুচতে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, ইনজুরির কারণে ফেব্রুয়ারি মাসের পর থেকে আল নাসরের বেশ কিছু
গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের পাশাপাশি পর্তুগাল জাতীয় দলের সর্বশেষ দুটি প্রীতি ম্যাচেও
অনুপস্থিত ছিলেন রোনালদো। তাঁর অবর্তমানে পর্তুগাল মেক্সিকোর সাথে গোলশূন্য ড্র
করলেও যুক্তরাষ্ট্রকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল। বিশ্বকাপের চূড়ান্ত প্রস্তুতির আগে
অধিনায়ক ও দলের প্রধান গোলদাতার এমন দুর্দান্ত ফেরা পর্তুগিজ ভক্তদের মনে নতুন করে
বিশ্বজয়ের আশা জাগিয়ে তুলেছে। সব মিলিয়ে রোনালদোর এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তন বিশ্ব
ফুটবল অঙ্গনে এক নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।





