পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের জের ধরে বিজেপিকে রাজ্যে শূন্য করার ডাক দিয়েছে তৃণমূল নেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দক্ষিণ দিনাজপুরের হরিরামপুরে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি এই রাজনৈতিক হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বাংলাকে লক্ষ্য করলে পরবর্তীতে দিল্লিকেও টার্গেট করবে এই বিজেপি।
জনসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে বলেন, ‘আবার খেলা হবে, দুর্দান্ত খেলা হবে। আপনারা বিজেপিকে শূন্য করে দিন, আর বাংলাকে পূর্ণ করে দিন।’ ভোটারদের সতর্ক করে তিনি আরও বলেন, বিজেপির কোনো ‘গেমপ্ল্যান’ যেন কেউ বুঝে ওঠার আগে কাজে লাগানোর চেষ্টা না করে।
বৈধ নির্বাচন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে কেন্দ্রীয় দলের হস্তক্ষেপের প্রসঙ্গটি তোলেন তিনি, যেখানে তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনে লক্ষ্য করে বিভিন্ন রাজ্য থেকে ৫০৬টি সরকারি কর্মকর্তা বদলি করা হয়েছে, যার মধ্যে ৪৮৩ জন পশ্চিমবঙ্গের। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘এই খেলা বুঝতে পারছেন তো?’ এরপর তিনি ঘোষণা করেন, ২০২৬ সালের মধ্যে বিজেপিকে প্রথমে বাংলার মধ্যে এবং পরে দিল্লি থেকে বিদায় করতে হবে বলে মনস্থ করেছেন।
বিজেপিকে বাংলার বিপক্ষে আখ্যা দিয়ে মমতা বলেন, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান ও ওড়িশার মতো রাজ্যেও বাংলাভাষীদের সঙ্গে বৈরিতা চলছে। তিনি বলেন, ‘যদি বাংলাভাষা ও আমাদের সংস্কৃতি রক্ষা করতে হয়, তবে তৃণমূলকে ক্ষমতায় আনতেই হবে। ক্ষমতায় এলে আমরা এনআরসি করব না, কাউকে ডিটেনশন কেন্দ্রেও ঢুকতে দেব না।’
ভোটের দিন কেন্দ্রীয় বাহিনী দ্বারা ভয়ভীতি ও বাধার আশঙ্কা প্রকাশ করে, মা-বোনদের গ্রামে গিয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি। তিনি বলেন, ‘২৯৪টি কেন্দ্রে কে প্রার্থী তার কোনও দরকার নেই। একটাই মনে করুন, সব আসনেই আমি একা প্রার্থী। আপনারা যতটুকু ভোট দেবেন, সেই ভোটই নিশ্চিত করবে ভবিষ্যৎ, বাংলার সংস্কৃতি কেমন থাকবে।’
মমতা রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে চলমান বিশৃঙ্খলা ও হিংসাত্মক ঘটনার জন্য বিজেপি, মিম, আইএসএফ ও কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন। তিনি বলেন, বাহির থেকে লোক এনে পরিকল্পিতভাবে অশান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে যাতে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করার ভাবনা বাস্তবায়িত হয়। এই ঘটনায় ইতোমধ্যে প্রধান অভিযুক্ত আইনজীবী মোফাখারুল ইসলামসহ ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তের জন্য কেন্দ্রীয় সংস্থা এনআইএ-র কাছে তদন্তভার দেওয়া হয়েছে। আইপিএস কর্মকর্তা সোনিয়া সিং নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। মমতা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সকলকে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানিয়েছেন।





