রবিবার, ৫ই এপ্রিল, ২০২৬, ২২শে চৈত্র, ১৪৩২

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের এক মাস: ১৩ মার্কিন সেনার মৃত্যু ও ৩৬৫ জন আহত

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এখন অনেক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর পেন্টাগন এই সংঘর্ষের শেষ পরিস্থিতি সম্পর্কিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। ওই তথ্য অনুযায়ী, গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযানে অন্তত ১৩ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং আরও ৩৬৫ জন সেনা গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। এই তথ্য নিশ্চিত করেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।

পেন্টাগনের বিশ্লেষণে দেখা যায়, আহত সেনাদের মধ্যে বড় একটি অংশ মার্কিন সেনাবাহিনী। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন সেনাবাহিনীর অন্তত ২৪৭ জন সদস্য বিভিন্ন আঘাতের কারণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া, মার্কিন নৌবাহিনী থেকে ৬৩ জন এবং বিমানবাহিনী থেকে ৩৬ জন সেনা এই যুদ্ধে আহত হয়েছেন। আরও, বিশেষ প্রশিক্ষিত মারিন কোরের ১৯ জন সদস্যও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। এসবের মধ্য দিয়ে, আধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম এবং মার্কিন সামরিক উপস্থিতি সত্ত্বেও সেনাদের এত বেশি হতাহতের ঘটনা পেন্টাগনের রণকৌশলের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে।

এছাড়া, উল্লেখযোগ্যভাবে জানানো হয়, ইরানের পক্ষ থেকে গতকাল দুটি অত্যাধুনিক মার্কিন বিমান ভূপাতিত করার দাবি করা হয়েছে। তবে, পেন্টাগনের ঘোষিত তালিকায় এই বিমান বিধ্বংসের সঙ্গে কোনো পাইলট বা ক্রু সদস্যের ক্ষয়ক্ষতি বা মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। বিমান দুর্ঘটনায় ক্রুদের উদ্ধার বা তাঁদের পরিস্থিতি সম্পর্কেও সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, ফলে জানা যায়নি কতজন নিহত বা আহত হয়েছেন। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হামলার ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

এতদিন ধরে চলা এই সংঘাত গত ২৮ ফেব্রুয়ারির থেকে শুরু होकर এখন দ্বিতীয় মাসে পা রেখেছে। ইরান দূরপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার জবাবে পাল্টা আঘাত ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে, যা মার্কিন সেনাদের প্রাণহানির ঝুঁকি ক্রমশই বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে, ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরেও এই ক্রমবর্ধমান ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা ও সমালোচনা চলেছে। বিশেষ করে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দ্রুত যুদ্ধ শেষের ঘোষণা দেন, তখন মাঠের সেনাদের হতাহতের খবর মার্কিন প্রশাসনের মনোবলের জন্য নতুন দুশ্চিন্তার কারণ সৃষ্টি করছে। ভবিষ্যৎ দিনগুলোতে এই সংঘর্ষের কারণে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা।

পোস্টটি শেয়ার করুন