মঙ্গলবার, ৭ই এপ্রিল, ২০২৬, ২৪শে চৈত্র, ১৪৩২

ইরানে দুর্ধর্ষ অভিযান চালিয়ে মার্কিন পাইলটকে উদ্ধার

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে ভূপাতিত মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রু সদস্যকে সফলভাবে উদ্ধার করেছে মার্কিন সেনারা। গত শুক্রবার দক্ষিণ ইরানের এক অঞ্চলে অভিযান চালিয়ে দেশটির সামরিক বাহিনী লক্ষ্যবস্তু হিসেবে আঘাত করে ওই বিমানটি। এর পরের দিন শনিবার রাতে মার্কিন সামরিক বাহিনী এক সাহসী এবং জটিল উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে নিখোঁজ সেই ক্রু সদস্যকে নিরাপদে উদ্ধার করেন।

রোববার সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই উদ্ধার কার্যক্রমের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, উদ্ধারকৃত পাইলট সম্পূর্ণ সুস্থ ও নিরাপদে আছেন। তিনি আরও জানান, পাইলট একজন কর্নেল এবং ইরানের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে শত্রুর হেফাজতে ছিলেন। মার্কিন কর্তৃপক্ষ কঠোর পর্যবেক্ষণে ছিলেন, এমনকি তারা ক্ষতিগ্রস্ত বিমানের এই অভিযানের জন্য ডজনের বেশি বিমান পাঠিয়েছিলেন। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, এই অভিযান কোনও মার্কিন নিহত কিংবা আহত ছাড়াই সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অভিযানে দুইজন ক্রু সদস্য ছিল। বিমান ভূপাতিত হওয়ার পর দুইজনই প্যারাসুট দিয়ে অবতরণ করেন। তাদের মধ্যে একজনকে আগেই মার্কিন সেনারা নিরাপদে উদ্ধার করে নিয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করেন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে তারা ওই বিমানকে ভূপাতিত করে। এখন এই অভিযানের বিস্তারিত তথ্য আসতে শুরু করেছে।

অভিযানের পর্যায়ে, মার্কিন ও ইরানি সেনাদের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে এবং বিমান থেকে পাইলটদের ইজেক্ট করার সময় আহত হওয়ার ধারনা করা হচ্ছে। এই উদ্ধার মিশনে ব্যাপক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সেনারা হেলিকপ্টার দিয়ে শত্রুপৃষ্ঠ থেকে দ্রুত দ্রুত প্রস্থান করেছেন, যেখানে শত্রুরা শত্রুপোশাক ও আক্রমণ করে।

ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেছেন, ওই পাইলট একজন কর্নেল, যিনি ইরানের কঠিন পাহাড়ি এলাকায় শত্রুর নিয়ন্ত্রণের ভেতরে ছিলেন। আশপাশে থাকা শত্রু সেনারা প্রতি ঘণ্টায় তার কাছাকাছি আসছিল। মার্কিন সরকার ২৪ ঘণ্টা তার অবস্থান তদারকি করছিল এবং কয়েক ডজন মার্কিন বিমান সেখানে পাঠানো হয়। এতে কোনও মার্কিন নাগরিক হতাহত হননি।

অপর দিকে, ইরানের কর্তৃপক্ষ বলেছে, উদ্ধারকালে দেশটির সৈন্যরা একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এই ড্রোনটি দক্ষিণ ইসফাহান প্রদেশে বিধ্বস্ত হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে ইরান বলেছে, তারা নিখোঁজ আমেরিকান পাইলটকে জীবিত খুঁজে পেতে চায় এবং তার জন্য নাগরিকদের পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেয়। প্রত্যক্ষভাবে এই পরিস্থিতিতে উচ্চ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ক্রু সদস্যরা কঠিন পরিস্থিতির মোকাবেলা করেন, যাতে তাদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে থাকলেও তারা বাঁচার জন্য সংগ্রাম করে যান।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের অভিযানে মূল লক্ষ্য হলো শত্রুর মাধ্যমে পাইলটকে বাঁচানো এবং নিরাপদ স্থানে ফিরিয়ে নিয়ে আসা। তারা টিকে থাকার জন্য বিভিন্ন কলাকৌশল শিখে থাকেন, যেমন পানি বা খাবার ছাড়াই দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকা।

অভিযানের স্থান ও সময় নিয়ে ইরানি গণমাধ্যম জানায়, দেশটির সেনারা গত শুক্রবার দক্ষিণাঞ্চলে একটি মার্কিন বিমান ভূপাতিত করে। এই হামলার ফলে দুজন ক্রুকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। সেই বিমানটি ছিল একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান। তবে ভূপাতিত হবার স্পষ্ট স্থান নিশ্চিত হয়নি, তবে বিশেষ কিছু প্রদেশের নাম জানা যায়—কোহগিলুয়েহ, বয়-আহমাদ ও খুজেস্তান।

অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি হেলিকপ্টার ক্ষুদ্র অস্ত্রের গুলিতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়, তবে সেটিও নিরাপদে অবতরণ করে। এদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম বলছে, সেই বিমানটি থেকে উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারটি আহত হয়, তবে সেও অবতরণে সক্ষম হয়। এই পুরো অভিযানটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হলেও, দক্ষ সেনাদের দক্ষতায় তা সফলভাবে শেষ হয়।

পোস্টটি শেয়ার করুন