, ,

প্রযুক্তির ছোঁয়ায় কর্মহীন মানুষ

আধুনিক যুগে প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে। প্রযুক্তি ব্যাবহার করে উন্নয়ণ কর্মকাণ্ডও

চলছে, এতে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশও নানা প্রযুক্তিতে এগিয়ে চলছে। অফিস আদালতসহ

সর্বত্রই প্রযুক্তির ছড়াছড়ি। মাঠপর্যায়ের কাজেও প্রযুক্তির আচড় পড়েছে। এর সুবিধাভোগ

করছে একদম প্রান্তিক জনগোষ্ঠী থেকে শুরু করে সব রকমের মানুষ। কিন্তু এতসব

প্রযুক্তির মধ্যে একটা জিনিস ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে- আর তা হলো কর্মসংস্থান। যেখানে

প্রযুক্তি চলে আসে সেখানে অনেকগুলো মানুষের কাজ ওই প্রযুক্তি মানুষের চেয়ে অল্প

সময়ে নিখুঁতভাবে করে ফেলতে পারে। এতে অনেকে যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে না পেরে কাজ

হারিয়ে ফেলছে আবার কেউ কেউ অন্য কাজে মনোনিবেশ করছে। তবে যারা কোনোকিছুই পারছে না

আর একদম কাজ হারিয়ে ফেলছে।

আওলাদ হোসেন বলেন, আগে রাস্তা-ঘাটের কাজ, বেড়িবাঁধ, মাটিকাটাসহ এসব মানুষ মিলে করত

কিন্তু এখন এক্সকেভেটর মেশিন আসার কারণে ওসব কাজ দ্রুততম সময়ে ও নিখুঁতভাবে করে

ফেলে। ফলে শ্রমিকরা বেকার হচ্ছে। আক্তার হোসেন বলেন, আগে বোরো মৌসুমে ধান কাটার সময়

নানা এলাকা থেকে মানুষ এসে ধান কাটত কিন্তু উন্নত প্রযুক্তি আসার কারণে মেশিনে ধান

কাটা হচ্ছে। ওই মৌসুমে সেসব মানুষ কষ্টে দিনাতিপাত করছে।

বিএনপি নেতা শিল্পপতি কাজী মনিরুজ্জামান বলেন, সহজেই অনুমেয় যে আগামীতে যতবেশি

প্রযুক্তি আসবে ততবেশি কর্মসংস্থান হারাবে মানুষ- মানুষের জায়গায় স্থান করে নিবে

প্রযুক্তি তথা মেশিন। যারা উন্নত প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মেলাতে সক্ষম হবে তারাই

প্রযুক্তির যুগে টিকে থাকতে পারবে। অফিসের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে বর্তমানের নানা

অফিসে এমন সব প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় যাতে লোকবলের সংখ্যা কম থাকে। একেকটা

কম্পিউটারাইজড প্রোগ্রাম অনেক মানুষের কাজ করে ফেলে। ফলস্বরূপ ওসব অফিসে কাজের

সুযোগ কমে যাচ্ছে।

লন্ডনের ইকোনমিস্ট ইউনিটের (ইআইইউ) তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশে শিক্ষিত বেকারের হার

সবচেয়ে বেশি। প্রতি ১০০ জন স্নাতক ডিগ্রিধারীদের মধ্যে ৪৭ জনই বেকার। অর্থাৎ প্রতি

দুজনে একজন বেকার। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, দেশে কর্মক্ষম বেকারের

সংখ্যা ২৭ লাখ আর আইএলও এর মতে, বেকারের সংখ্যা ৩ কোটি। এখনই যদি আমরা ডিজিটাল

দুনিয়ার সাথে তাল মেলাতে না পারে তাহলে মানুষ পিছিয়ে পড়ছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলাম জয় এ ব্যাপারে বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহার না

করলে চলে সেখানে মানুষেরই ব্যবহার করা, প্রতিনিয়ত কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা,

ভোকেশনাল কোর্স চালু করা, যেসব শ্রমিক যেখানে কাজ করে সেখানে তাদের সংগঠন সৃষ্টি

করার পরিবেশ করা যাতে তারা তাদের সুবিধা-অসুবিধা যথোপযুক্ত কর্তৃপক্ষকে অবগত করতে

পারে, সর্বত্র লিঙ্গবৈষম্য দূর করে সমান হারে মজুরি, শিশুশ্রম হ্রাস, যারা

নির্ধারিত কাজে পারদর্শী তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া ও ভালো কাজ করলে পুরস্কৃত করা এবং

একান্তই যারা কাজ বদল করে খাপ-খাওয়াতে পারেনি তাদের সরকার কর্তৃক আর্থিক সহায়তা

ইত্যাদি।

রূপগঞ্জের বেকার কল্যাণ সংস্থার সভাপতি নজরুল ইসলাম ভুইয়া বলেন, প্রযুক্তিকে এড়িয়ে

চলার সুযোগ নেই। একইভাবে সব অফিসে এমনভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে যাতে মানুষের

কাজের সুযোগ কমে না যায় বা একদিকে কমলে অন্যদিকে বাড়ানো যায়। প্রযুক্তি আসে সব

উন্নত দেশের জন্য আর তাদের জনগণও খুব কম। ওসব দেশ কম মানুষ খাটিয়ে বেশি ফল পেতে

চায়। কিন্তু আমাদের চিত্র তো উল্টো! আমাদের বিশাল জনসংখ্যা, কাজ কমে গেলে এতসব

মানুষ বাঁচবে কীভাবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন