বুধবার, ৮ই এপ্রিল, ২০২৬, ২৫শে চৈত্র, ১৪৩২

সীমান্ত বাণিজ্য সচলের লক্ষ্যে টেকনাফ স্থলবন্দর চালুর উদ্যোগ

বাংলাদেশ–মিয়ানমার সীমান্ত বাণিজ্যের অন্যতম প্রবেশদ্বার টেকনাফ স্থলবন্দর প্রায় এক

বছর ধরে অচলাবস্থায় পড়ে আছে। মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও সীমান্ত নিরাপত্তা

ঝুঁকির কারণে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে পড়ে। তবে পরিস্থিতি

বিবেচনায় ফের এই বন্দর চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী

মো. রাজিব আহসান সোমবার টেকনাফ স্থলবন্দর এলাকা পরিদর্শন করেন।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে টেকনাফ উপজেলার সদর ইউনিয়নের কেরুনতলী এলাকায় নাফ নদীর

তীরবর্তী বন্দরে পৌঁছে তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী

বাহিনী ও বন্দর সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় তিনি বন্দর এলাকার গুদাম,

অবকাঠামো ও সামগ্রিক কার্যক্রম ঘুরে দেখেন।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রতিমন্ত্রী জানান, স্থলবন্দর পুনরায় চালু করতে

প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ব্যবসায়ী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, সিএন্ডএফ এজেন্ট,

কাস্টমস ও এনবিআরসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া

হয়েছে। জনগণের চাহিদা ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় দ্রুত বন্দর সচল করার কাজ

এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সরকারের সমন্বয়ের মাধ্যমে

সীমান্ত বাণিজ্য স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। এ কারণে বন্দরকেন্দ্রিক

কার্যক্রমে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। পোর্ট অপারেটর ও আইনশৃঙ্খলা

বাহিনীকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—কোনো অবস্থাতেই রোহিঙ্গাদের বন্দরসংক্রান্ত

কাজে সম্পৃক্ত হতে দেওয়া যাবে না। এখানে কাজ করতে হলে অবশ্যই বাংলাদেশের বৈধ নাগরিক

হতে হবে এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রত্যয়নপত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অনুপ্রবেশে

কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মুহাম্মদ মানজারুল

মান্নান বলেন, বন্দর আনুষ্ঠানিকভাবে খোলা থাকলেও এতদিন নিরাপত্তাজনিত সীমাবদ্ধতা

ছিল। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করে আবারও পণ্য

আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বন্দরটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। গত অর্থবছরে প্রায়

৫০০ কোটি টাকার রাজস্ব হারিয়েছে সরকার। স্থানীয় বাজারে নিত্যপণ্যের সরবরাহ ব্যাহত

হয়েছে, কর্মহীন হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার শ্রমিক। কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, ২০২২-২৩

অর্থবছরে এ বন্দর থেকে প্রায় ৬৪০ কোটি টাকা এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রায় ৮০৪ কোটি

টাকা রাজস্ব আদায় হলেও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা নেমে আসে মাত্র ১৩০ কোটিতে।

টেকনাফ স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি ওমর ফারুক বলেন, দ্রুত

বন্দর চালুর বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। এক বছরের লোকসান কাটিয়ে ওঠার আশায়

ব্যবসায়ীরা অপেক্ষায় আছেন।

উল্লেখ্য, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাত এবং আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণের

কারণে সীমান্ত এলাকায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। গত বছরের এপ্রিল মাসে পণ্যবাহী জাহাজ থেকে

চাঁদা দাবির ঘটনায় বাণিজ্য কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

পোস্টটি শেয়ার করুন