বৃহস্পতিবার, ৯ই এপ্রিল, ২০২৬, ২৬শে চৈত্র, ১৪৩২

ডিএসসিসি প্রধানের ঘোষণা: ঢাকায় নতুন ভোটার তালিকা তৈরি অপরিহার্য

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম বলেছেন, নির্বাচনের আগে ঢাকায় নতুন ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা জরুরি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যারা স্থায়ীভাবে ঢাকায় থাকেন, তাদেরই ভোটার হওয়া উচিত। অন্য জেলা বা এলাকা থেকে এসে এখানে ভোট দেওয়া চলবে না।
শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত ‘জিয়া শিশু কিশোর মেলা’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
আবদুস সালাম নির্বাচন পরিচালনা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে নানা শঙ্কা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ঢাকার অনেক বাড়িতে আগে সাত-দশটি ভোটার থাকলেও হঠাৎ করে দেখাযায় সেখানে ১৫০টি ভোটার হয়ে গেছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাড়ির মালিকও জানেন না কারা এসব নতুন ভোটার। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যেখানে থাকেন, সেই এলাকাতেই ভোটার হওয়া উচিত। ঢাকায় থাকবেন না, ট্যাক্স দেবেন না, তবু ভোটের জন্য নাম লিখিয়ে নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরো জানান, দেশে যখনই নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে, তখনই বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। বিএনপি সবসময় জনতার ভোটের অধিকারে বিশ্বাসী।
অর্থনৈতিক সংকট ও বিশ্বব্যাপী চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে ডিএসসিসি প্রধান বলেন, চলমান বৈশ্বিক মন্দা ও অস্থিরতার মাঝে প্রধানমন্ত্রী সাহসিকতার সঙ্গে দেশের পরিস্থিতি মোকাবিলা করছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজ অফিসে এসি চালান না, অতিরিক্ত আলো জ্বালান না, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে নজির স্থাপন করেছেন। কিন্তু বিরোধীদলগুলো দেশকে সংকটের দিকে ঠেলে দিতে চাইছে।
আবদুস সালাম উল্লেখ করেন, নির্বাচনের সময় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ নিয়ে সমালোচনা হলেও এখন তা শুরু হয়েছে। কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হয়েছে এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যাংক ঋণ মওকুফের উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি সরকারের সমালোচকদের ধৈর্য্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার আহ্বান জানান। বলেন, ১৭ বছর পর মানুষ গনতন্ত্রের মুখ দেখছে, একটু ধীরস্থির ও বুঝে শুনে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। হঠকারিতা করলে দেশের ক্ষতি হবে।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, এখনও স্বাধীনতার পরেও ইতিহাসের সত্যতা নিয়ে চক্রান্ত চলছে। যারা মুক্তিযুদ্ধের পরে ক্ষমতায় ছিলেন, তারা প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা চাননি বলেই ইতিহাস বিকৃতির পথ নেওয়া হয়েছে।
আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি জাহাঙ্গীর শিকদার। এতে আরও বক্তৃতা করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ মালেক, একুশে পদকপ্রাপ্ত ছড়াকার আবু সালেহ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মোশারফ আহমেদ ঠাকুর প্রমুখ।

পোস্টটি শেয়ার করুন