, ,

ইউরোপে বিপজ্জনক স্বপ্নের যাত্রা: সাগরেই ডুবে প্রাণ হারাচ্ছেন অবৈধ অভিবাসীরা

স্বপ্নের ইউরোপে প্রবেশের আশায় অবৈধ পথে চলাচল করতে গিয়ে বাংলাদেশিসহ অনেক অভিবাসী গভীর সাগরশক্তে ডুবছে। ভূমধ্যসাগরে এখনও পর্যন্ত একের পর এক নৌকাডুবির ঘটনা ঘটছে, যার ফলে অগনিত জীবন হারানোর ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি লিবিয়ার উপকূলে নৌকাডুবিতে অন্তত ৭০ জন অভিবাসী নিখোঁজ রয়েছেন। তবে, বাংলাদেশের ৩২ জনসহ অন্যান্য দেশের কয়েকজন জীবন রক্ষা করেছেন, দাবি করেছেন উদ্ধারকারীরা। মার্কিনধারাই নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে জানায়, নৌকায় যাত্রীসংখ্যা তখন অন্তত ১০০ ছিল, যা নিখোঁজদের সংখ্যাকে আরও উদ্বেগজনক করে তোলে। অবৈধ অভিবাসনকার্যক্রমের এই ঘটনায় পানি ও জলীয়বাষ্পে আক্রান্ত হয়ে অজস্র জীবন শেষ হচ্ছে, কারণ এই পথে যাওয়ার জন্য নেই নিরাপদ ও বৈধ বিকল্প ব্যবস্থা। জার্মান ভিত্তিক সি ওয়াচ ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, তাজৌরা বন্দরে ছোট নৌকা দিয়ে যাত্রা শুরু হয়। পথে বৈরী আবহাওয়া, উত্তাল ঢেউ ও পানি ঢোকার কারণে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেটি ডুবে যায়। উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর এক জরিপে দেখা গেছে, নিহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। ইতালীয় ও লাইবেরিয়ান জাহাজগুলো সে সময় উদ্ধার কাজ চালায়, তাদের ট্রান্সপোর্টে উদ্ধার হয় জীবিত ও মৃতের লাশ। উদ্ধারকৃত ৩২ জনই পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও মিসরীয় নাগরিক। তাদের সঙ্গে দুই মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার একজন মুখপাত্র বলেছেন, এই নৌকাটি পুরোপুরি অনুপযুক্ত ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, নৌকায় প্রায় ১২০ জনের মতো যাত্রী ছিল। যদি তথ্য নিশ্চিত হয়, তবে এটি হতে পারে সাম্প্রতিককালের সবচেয়ে ভয়ংকর অভিবাসী ট্র্যাজেডি। বছরের পর বছর এই পথে যায়াতের ফলে ভূমধ্যসাগরে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে; শুধু ২০১৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৩৩,৪৫০ জনের বেশি জীবন হারিয়েছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানায় আইওএম। এই বছরের প্রথম ছয় মাসেই নিহতের সংখ্যা ছুঁয়েছে অন্তত ৭৫০ জনের বেশি। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিবাসীদের এই রুটে যাওয়ার মূল উৎস হলো দরিদ্র ও দারিদ্র্যপীড়িত পরিবারগুলো, যেখানে দালাল চক্র সক্রিয়ভাবে মানুষকে প্রলুব্ধ করে দশ লাখ টাকা বা তার বেশি দামে প্রেরণ করতে চায়। মৃত্যুর ঝুঁকি জেনেও অবৈধ চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার জন্য অনেকেই পাপের শিকার হচ্ছেন; ঘটনার পরও এই স্বপ্নের পথে চলা বন্ধ হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতি বছর লাখো বাংলাদেশি এই পথে পাড়ি জমাচ্ছেন, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। বিভিন্ন সময়ের নৌকাডুবির ঘটনায় দেখানো হচ্ছে, ছোট নৌকা বা স্পিডবোটও যখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে, তখন প্রাণহানি ঘটে বেশি। বিভিন্ন সময়ের নিখোঁজের সংখ্যা ও মৃত্যুর ঘটনাগুলো দেখলে বোঝা যায়, এই মানবপাচার একটি বিশাল অরাজকতা ও মৃত্যুকর রুট। পুলিশ ও বিভিন্ন সংস্থা বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে দালাল ও মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। বাংলাদেশে সারা দেশে মানবপাচারবিরোধী মামলা চলছে, তবে এই চক্রের দৌরাত্ম্য থামছে না। বিশ্লেষকরা মনে করেন, অনেক দালাল অর্থের মোহে এই কুখ্যাত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসন বলছে, কিছু দালালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তবে এটি একটা ব্যাপক সমস্যা এবং এগুলি বন্ধ করতে হলে আরও কঠোর উদ্যোগ প্রয়োজন। এদিকে, বাংলাদেশে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এই পথে ঝুঁকি নিয়ে ইউরোপ যাচ্ছেন, কারণ দেশের জীবনমান ও কর্মসংস্থানের অভাব এ কাজে প্ররোচিত করে। তবে সাগর অতিক্রমের এই ঝুঁকি নিয়ে স্বপ্ন দেখার ফল ভয়াবহ; জীবন হারানোর ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এড়ানোর জন্য সচেতনতা ও কঠোর আইন প্রয়োগের উপর জোর দিচ্ছে। এর ফলে আমাদের প্রয়োজন বৃহত্তর সমঝোতা ও কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে এই প্রাণহানি ঠেকানো।

পোস্টটি শেয়ার করুন