বৃহস্পতিবার, ৯ই এপ্রিল, ২০২৬, ২৬শে চৈত্র, ১৪৩২

হরমুজ প্রণালী খোলার শর্তে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা ট্রাম্পের

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান গুরুতর উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক নাটকীয় ও তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন, যদি ইরান হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ ও নিরাপদভাবে খুলে দেয়, তবে আগামী দুই সপ্তাহের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূলত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের আন্তরিক মধ্যস্থতা ও সফল কূটনৈতিক প্রচেষ্টা রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো নিশ্চিত করছে।

প্রথমে ট্রাম্পের মন্তব্য ছিল ভয়াবহ ও হুঁশিয়ারিমূলক, যেখানে তিনি বলেছিলেন, ‘আজ রাতেই একটি সভ্যতা শেষ হয়ে যেতে পারে, যা আর কখনো ফিরে আসবে না।’ এই কথার পর বিশ্বে আতঙ্ক ও যুদ্ধের ভয় ছড়িয়ে পড়েছিল। ঠিক তখনই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী উদ্যোগী হন, তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সময়সীমা আরও দুই সপ্তাহ বাড়ানোর অনুরোধ করেন এবং ইরানের সাথে হরমুজ প্রণালির নৌচলাচল উন্মুক্ত রাখার জন্য জোর দেন। এই মধ্যস্থতা দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সংঘাত এড়ানোর নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পাকিস্তানের সঙ্গে গভীর আলোচনার পর ট্রাম্প তার অবস্থান থেকে কিছুটা সরে আসার সংকেত দেন। তিনি বলেন, “আমি ইরানের ওপর বোমাবর্ষণ ও হামলা দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখার জন্য একমত হয়েছি।” ট্রাম্পের মতে, এই যুদ্ধবিরতি এক ধরনের ‘দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থা’, যা উভয় পক্ষের সম্মতিতে কার্যকর হবে। তবে এই বিরতি স্থায়ী বা চিরস্থায়ী নয়, এর জন্য একটি স্পষ্ট শর্ত নির্ধারিত হয়েছে। মার্কিন প্রশাসন বলছে, এই বিরতি তখনই বলবৎ থাকবে যখন ইরান হরমুজ প্রণালিকে সম্পূর্ণ, তাৎক্ষণিক ও নিরাপদভাবে আন্তর্জাতিক শিপিংয়ের জন্য উন্মুক্ত করবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি শান্ত করার ক্ষেত্রে একটি নতুন দিগন্ত উম্মোচন করেছে। এটি এক ধরনের কৌশলগত বিরতি, যা দীর্ঘমেয়াদী শান্তির পথে এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব বিশ্বজুড়ে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য, এবং এই পথ প্রস্থানের মাধ্যমে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এক নয়া আশা দেখা যাচ্ছে। এখন পুরো বিশ্বের অপেক্ষা তেহরানের চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়ার জন্য, যা সিদ্ধান্ত নিবে এই সাময়িক বিরতির পর দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা আসবে কি না।

পোস্টটি শেয়ার করুন