উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কুইটারে অনুষ্ঠিত প্রথম লেগে সম্প্রতি সংঘটিত এক উত্তেজনাপূর্ণ ও উচ্চমাত্রার ম্যাচে বার্সেলোনা নিজস্ব মাঠ ক্যাম্প ন্যুতে দুর্দান্ত খেলেও হেরে যায়। অপরদিকে, প্রতিপক্ষ অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ দুর্দান্ত দক্ষতায় ২-০ গোলের জয় তুলে নেয়। এই ফলাফল তাদের জন্য ব্যাপক সুবিধাজনক করে তোলে সেমিফাইনালে পৌঁছানোর জন্য, কারণ তারা এখন খুবই কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছেন। অন্যদিকে, বার্সেলোনা অসংখ্য সুযোগ তৈরি করেও শোনামতো গোল করতে ব্যর্থ হয় এবং ফিনিশিং সমস্যার কারণে বড় ধাক্কা খায়।
এই ম্যাচটি অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের জন্য ছিল এক বিশেষ মাইলফলক। দীর্ঘ ১৯ বছর পর, তারা আবারও ক্যাম্প ন্যুতে বার্সেলোনা হারানোর স্বপ্ন সত্যি করে দেখালো। এর আগে কখনোই এই স্টেডিয়ামে জয় মেলেনি তাদের, তবে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর, এই প্রথম সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হলো। পুরো ম্যাচ জুড়েই বার্সেলোনা ৫৮ শতাংশ বলের অধিকাধিকার নিয়ে বেশ কিছু আক্রমণ করে, যেখানে ১৮টি শট নেয়, যার মধ্যে ৭টি ছিল লক্ষ্যে। এর বিপরীতে, অ্যাতলেটিকো মাত্র ৫টি শট নেয়, তবুও তার মধ্যে ৩টি লক্ষ্যভেদ করে জয় পায়। এই নিখুঁত ফিনিশিংই মূল পার্থক্য গড়ে দেয় দুই দলের মধ্যে।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে ঝুঁকিতে ছিল বার্সেলোনা। দ্বিতীয় মিনিটে মার্কাস রাশফোর্ডের সুযোগটি সুবিধাজনক হলেও তার শট সরাসরি অ্যাতলেটিকোর গোলরক্ষকের হাতে চলে যায়। এরপর, তরুণ খেলোয়াড় লামিনে ইয়ামাল ও রাশফোর্ড প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করে গেলেও গোলের দেখা পাননি। তবে ম্যাচের ৪৩তম মিনিটে ঘটে গেছে বড় আরেক ঘটনা। তরুণ ডিফেন্ডার পাউ কুবারসি জুলিয়ানো সিমিওনেকে ফাউল করেন। রেফারি শুরুতে হলুদ কার্ড দেয়, কিন্তু ভিএআর পরীক্ষার পর সরাসরি লাল কার্ডের নির্দেশ দেন। এর ফলে বার্সেলোনার জায়গায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে যায় প্রথমার্ধের ঠিক আগে, যখন তারা ১০ জন খেলোয়াড়ে পরিণত হয়।
দ্বিতীয়ার্ধে, একদিকে ১০ জনের দল হওয়া সত্ত্বেও বার্সেলোনা গোলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠে। ৫০ মিনিটে ইয়ামাল দারুণ একটা থ্রু করে গোলরক্ষককে কাটিয়ে দিলেও, রাশফোর্ডের শট পাশের জালে জড়িয়ে যায়। এরপর, গাভির কর্নার থেকে জুলস কুন্দের হেডে গোলের জন্য প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। সবথেকে বড় ঘটনা ঘটে ৭০ মিনিটে। তখন, প্রতিপক্ষের মধ্যে আলেক্সান্ডার সরলথের বদলি হিসেবে ঢুকে দুর্দান্ত এক ভলিতে গোল করে জয় নিশ্চিত করে নেওয়া হয়। শেষ মুহূর্তে বার্সেলোনা আর কার্যকর কিছু আক্রমণ করতে পারেনি, ফলে ফলে ২-০ গোল হেরে মাঠ ছেড়ে যায় মাদ্রিদ দলটি।
এই হারে বার্সেলোনার সেমিফাইনালে যাওয়ার স্বপ্ন এখন কঠিন পরীক্ষায় পড়েছে। আগামী মঙ্গলবার মেট্রোপলিতানো স্টেডিয়ামে ফিরতি লেগটি অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে এই দুই প্রতিদ্বন্দ্বী মুখোমুখি হবে। দুই গোলের এই ব্যবধান ঘোচানোর জন্য বার্সেলোনার জন্য যথেষ্ট কঠিন পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াচ্ছে, বিশেষ করে ফেব্রুয়ারির সেই ভয়ংকর ৪-০ হারের স্মৃতি এখনো মুখে। তবে, বর্তমানে দিয়েগো সিমিওনের দল ফুটবল মাঠে আত্মবিশ্বাসে ভরে উঠেছে। সোমবারের ম্যাচে স্প্যানিশ ফুটবলের এই বড় দুই দল কোনটি শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিতে পারবে, সেটি দেখতে ফুটবলপ্রেমীদের অপেক্ষা এখনো অব্যাহত।





