বৃহস্পতিবার, ৯ই এপ্রিল, ২০২৬, ২৬শে চৈত্র, ১৪৩২

ইরানের কাছে অস্ত্র বিক্রিতে ট্রাম্পের নতুন কড়াকড়ি: শুল্ক দ্বিগুণ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবেদনের নিরিখে ইরানের কাছে সামরিক অস্ত্র বিক্রি বা সরবরাহ করার জন্য দেশগুলোর ওপর নতুন একটি কঠোর পদক্ষেপ নেন। তিনি ঘোষণা করেন, যারা ইরানে অস্ত্র পাঠাবে, তাদের ওপর তৎক্ষণাৎ ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। এই ঘোষণা তিনি বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেন। ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারিতে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কোনো ধরনের ব্যতিক্রম বা ছাড় দেওয়া হবে না। এর আগেও চলতি বছরের জানুয়ারিতে তিনি বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে যেকোনো ধরনের ব্যবসা বা অস্ত্র দেশের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় শুল্কের হার দ্বিগুণ করে ৫০ শতাংশে পৌঁছানো হয়েছে। এই নীতির মূল লক্ষ্য হলো রাশিয়া ও চীন, যারা ইরানের প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ। এ ব্যাপারে গবেষণা প্রতিষ্ঠান SIPRI এর তথ্যমতে, গত এক দশকে ইরান তার মোট অস্ত্র আমদানি বেশি ভাগ রাশিয়া থেকে সংগ্রহ করে আসছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতেও ইরান-রাশিয়া মধ্যে ৫০০ মিলিয়ন ইউরোর (প্রায় ৫৮৯ মিলিয়ন ডলার) একটি গোপন অস্ত্র চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির আওতায়, রাশিয়া পরবর্তী তিন বছরে ইরানকে ২,৫০০টি ‘৯এম৩৩৬’ মিসাইল এবং ৫০০টি ‘ভারবা’ লঞ্চার সরবরাহ করবে। এর আগেও, ২০২১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত, রাশিয়া ইরানের কাছ থেকে ৪ বিলিয়ন ডলার পার্থক্যের সামরিক সরঞ্জাম, যেমন ড্রোন ও মিসাইল, ক্রয় করেছে। অপরদিকে, চীনের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক মূলত তেলের বিনিময়ে অস্ত্রের আদান-প্রদানে নিবদ্ধ। চীন ইরানে অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ মিসাইল, ড্রোন ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করছে, যার আর্থিক মূল্য গোপন থাকলেও কিছু রিপোর্টে জানানো হয়েছে, চীন গোপনে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের অস্ত্র সরবরাহ করেছে। এছাড়াও, ইরান চীন থেকে ৮০০টি ব্যালিস্টিক মিসাইল তৈরির উপকরণ সংগ্রহ করছে। অন্য দেশের মধ্যে, বেলারুশ থেকেও ইরান রাডার সিস্টেমসহ অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ করে থাকে। এই সব পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত, যা ইরানের সামরিক অগ্রসরতা রুখতে ও ওই অঞ্চলে মার্কিন প্রভাব রক্ষা করতে চায়।

পোস্টটি শেয়ার করুন