বৃহস্পতিবার, ৯ই এপ্রিল, ২০২৬, ২৬শে চৈত্র, ১৪৩২

লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

ইসরায়েল লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যেখানে তারা ব্যাপক মাত্রায় আকাশ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে। এই হামলা চলাকালে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকার উপর নজরদারি ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে, যা স্থানীয় জনগণের জীবনের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। এই পরিস্থিতিতে বোঝা যায়, ইসরায়েলের কাছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে-war-truce-চুক্তির বিষয়টি লেবাননের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

লেবাননের স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, মঙ্গলবার ঘোষণা করা যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও বিভিন্ন সময় ইসরায়েলি সৈন্য ও বিমানগুলো আবারো হামলা চালাচ্ছে। বুধবার সকালে দক্ষিণ লেবাননের টায়ার ও নাবাতিয়েহ এলাকায় ব্যাপক আকাশি অভিযান চালানো হয়। এই হামলার ফলে সেই এলাকাগুলিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে।

ইসরায়েলি সেনারা এই হামলার পর নতুন নির্দেশনা দেয়, যাতে টায়ার শহরের বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার জন্য বলা হয়। তারা জানায়, নিরাপত্তার স্বার্থে সবাইকে অবিলম্বে ঘর থেকে বের হয়ে জাহরানি নদীর উত্তরে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অপরদিকে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ইরানে হামলার কার্যক্রম বন্ধ করেছে, তবে লেবাননে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরানে হামলার এক পর্যায় শেষ হয়েছে এবং তারা আদি রাজনৈতিক নির্দেশনা অনুযায়ী যুদ্ধবিরতিতে রয়েছেন। তবে যে কোনও ধরণের লঙ্ঘন বা হামলার ঘটনা ঘটলে তারা প্রয়োজন অনুযায়ী কঠোর জবাব দিতে প্রস্তুত।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলি ও মার্কিন সেনারা একত্রে ইরানে চরম অস্ত্র ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল। এর জবাবে ইরান পাল্টা হামলা চালিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোসহ ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যকে টার্গেট করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে। এর কিছুদিনের মধ্যেই লেবানিজ সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলি ভূখণ্ডে হামলা শুরু করে এবং এই যুদ্ধটি বিস্তৃত আকারে ছড়িয়ে পড়ে। সেই থেকে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠে, পশ্চিম এশিয়াতে অস্থিরতা বিরাজ করছে।

এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই অসহনীয় সংঘর্ষবার্তা অবশেষে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত হয়। এর মাধ্যমে এই অঞ্চলে শান্তির স্বার্থে এক বিরতির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। লেবাননি সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ লেবানন ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতির জন্য ইরানের প্রতি আহ্বান জানায়।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে বলেন, ‘‘আমি এই উদ্যোগের স্বস্তিদায়ক আশ্বাস দিচ্ছি। এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়ে গেছে। আমি সবস্তরেই এই শান্তিপূর্ণ উদ্যোগেরত একান্ত শুভেচ্ছা ও স্বাগত জানাচ্ছি। তবে, আরও আলোচনা ও আন্তঃদেশীয় আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে যাতে একটি চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি সম্ভব হয়। সেই জন্য আমি আগামী ১০ এপ্রিল, ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিদলে সাক্ষাৎ করার আহ্বান জানাচ্ছি।’’

অন্য দিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নাফতালি নেতানিয়াহু এই যুদ্ধবিরতি বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন মনোভাব প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘‘লেবাননে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি আমাদের আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত নয়।’’ ইসরায়েলি দফতর থেকে একটি বিবৃতি জানায়, ‘‘বিশ্বের জন্য নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি যে, ইরান পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র ও সন্ত্রাসী হুমকি হয়ে না দাঁড়াতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই প্রচেষ্টায় আমাদের সমর্থন দিচ্ছে।’’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে জানায়, আসন্ন আলোচনা নেতৃত্বে একসঙ্গে কাজ করবে, তবে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়। অন্যদিকে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ইঙ্গিত দেয় যে, তারা লেবাননের সীমান্তের ভেতরে একটি নিরাপত্তা বাফার জোন তৈরি করার পরিকল্পনা করছে। ইতোমধ্যে কিছু ইসরায়েলি সেনা লেবাননে প্রবেশ করেছে, যা অশান্তির আরও বাড়িয়ে তুলছে এবং পূর্বানুমান রয়েছে, এর ফলশ্রুতিতে কিছু অংশ ইসরায়েলের দখলে চলে যেতে পারে। পক্ষান্তরে, এই পরিস্থিতিতে পুরো উপত্যকা পরিস্থিতি আরও ঝুলিল হয়ে উঠছে, যেখানে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এখনও বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন