শনিবার, ১১ই এপ্রিল, ২০২৬, ২৮শে চৈত্র, ১৪৩২

বিশ্বকাপে খেলার জন্য অবসর ভেঙে উরুগুয়ে দলে ফেরার ইঙ্গিত সুয়ারেজের

ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার এবং উরুগুয়ের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা লুইস সুয়ারেজ আবারও জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নামার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায় নিলেও, আগামী ২০২৬ বিশ্বকাপের হাতছানি তাঁকে আলোড়িত করছে। ৩৯ বছর বয়সী এই ফুটবল তারকা স্বীকার করেছেন, দেশের দরকারে এবং ফুটবলপ্রেমের টানে তিনি অবসর থেকে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিতে প্রস্তুত।

২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে নিজের শেষ ম্যাচে তিনি তার পরিবারের উপস্থিতিতে অশ্রুসিক্ত হয়ে বিদায় জানান। ১৭ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তিনি ১৪৩ ম্যাচে ৬৯টি গোল করে নিজের দেশের ফুটবল ইতিহাসের এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছেন। তখন তিনি তরুণদের জন্য সুযোগ দিতে এবং নিজের শারীরিক সক্ষমতা বিবেচনা করে অবসর নেন। তবে বর্তমানে তিনি মনে করছেন, এখনও নিজেকে ফুটবলের অনুমানযোগ্য দিক থেকে সম্পূর্ণ কার্যকর মনে করেন, এবং দেশের জন্য আরও কিছু করতে চান। সুয়ারেজের মতে, যখন বিশ্বকাপের মরসুম আসছে, তখন কোন ফুটবলারেরই জাতীয় দলের ডাক থেকে বঞ্চিত হওয়ার সাহস থাকে না।

এখনো মাঠে তাঁর পারফরম্যান্স অভাবনীয় নয়। বর্তমানে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) ইন্টার মায়ামির জার্সিতে খেলছেন। অস্টিন এফসির বিপক্ষে গোল করে তিনি আবারও দেখিয়েছেন, গোল করার ক্ষমতা এখনো অম্লান। তাঁর কোচ ও সাবেক সতীর্থ হাভিয়ের মাশ্চেরানো প্রশংসা করে জানিয়েছেন, সুয়ারেজ এখনো দলের আক্রমণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

গোড়ায় আজ ১১ জুন থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় শুরু হবে ২০২৬ বিশ্বকাপ। উরুগুয়ে ‘এইচ’ গ্রুপে খেলবে স্পেন, কেপ ভার্দে ও সৌদি আরবের বিপক্ষে। মজার বিষয় হলো, গ্রুপের দুটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে মায়ামিতে, যেখানে সুয়ারেজ বর্তমানে ক্লাব ফুটবল খেলছেন। এই পরিস্থিতিতে, উরুগুয়ে জাতীয় দলের জন্য শেষবারের মতো বিশ্বমঞ্চে লড়াই করার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

উরুগুয়ে সমর্থকদের মধ্যে সুয়ারেজের ফেরার এই সম্ভাবনা নতুন বিধান ও উৎসাহের সঞ্চার করেছে। যদিও কোচ মার্সেলো বিয়েলসা স্বীকার করেছেন, এই প্রবীণ ফুটবলারের স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্তি এখনো নিশ্চিত নয়। তবে সুয়ারেজের ফুটবলপ্রেম, উদ্দীপনা এবং চিরচেনা সাহস দেখলে বুঝতে পারা যায়, তিনি হয়তো আবারো উরুগুয়ের জার্সিতে খেলবেন। এখন দেখার বিষয়, উরুগুয়ে ফুটবল ফেডারেশন ও কোচিং স্টাফ কী ধরনের সিদ্ধান্ত নেন—তাদের সিদ্ধান্তই নির্ধার করবে, ২০২৬ বিশ্বকাপে তিনি কি আবার গোলের মুখ হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

পোস্টটি শেয়ার করুন