, ,

শাকিব খানের আইডিয়ায় নির্মিত হচ্ছে ‘রকস্টার’

ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খানের ক্যারিয়ারে যোগ হচ্ছে নতুন এক পালক। ‘তাণ্ডব’

সিনেমার অভাবনীয় সাফল্যের পর আবারও পর্দায় ফিরছে শাকিব খান ও সাবিলা নূর জুটি।

তাঁদের নতুন চলচ্চিত্র ‘রকস্টার’ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে চলচ্চিত্র পাড়ায় নানা গুঞ্জন

চললেও অবশেষে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়েছেন সিনেমার পরিচালক আজমান রুশো। তিনি

আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন যে, এই সিনেমার প্রধান নারী চরিত্রে সাবিলা নূরকেই

দেখা যাবে। তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, এই সিনেমার মূল কাস্টিং এবং সাবিলা নূরকে

চূড়ান্ত করার পেছনে স্বয়ং শাকিব খানের জোরালো ভূমিকা ও পরামর্শ কাজ করেছে।

পরিচালকের মতে, চরিত্রের প্রয়োজনে সাবিলাই ছিলেন সবচেয়ে জুতসই পছন্দ, যাতে

মেগাস্টারের পূর্ণ সমর্থন ছিল।

‘রকস্টার’ সিনেমাটি কেবল শাকিব খানের নতুন প্রজেক্টই নয়, বরং এটি তাঁর নিজেরই একটি

দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নের প্রতিফলন। পরিচালক আজমান রুশো জানিয়েছেন, এই সিনেমার মূল

ধারণা বা আইডিয়া শাকিব খানের মস্তিষ্কপ্রসূত। একদিন আলাপচারিতার ফাঁকে শাকিব খান

নিজেই একজন রকস্টারের চরিত্রে অভিনয়ের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, যা পরবর্তীতে একটি

পূর্ণাঙ্গ চিত্রনাট্যের রূপ নেয়। মজার বিষয় হলো, আজমান রুশো পরিচালনা পেশায় আসার

আগে একজন পেশাদার মিউজিশিয়ান ছিলেন। ফলে সংগীতশিল্পীদের জীবনসংগ্রাম, তাঁদের

উথ্থান-পতন এবং পর্দার পেছনের না বলা গল্পগুলো তাঁর খুব চেনা। শাকিব খানের প্রস্তাব

পাওয়ার পর রুশোর মনে হয়েছিল যেন এটি তাঁর নিজেরও একটি স্বপ্ন পূরণের সুযোগ।

সিনেমাটির নাম ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিতর্ক দানা বেঁধেছিল

যে, এটি হয়তো বলিউড নির্মাতা ইমতিয়াজ আলীর বিখ্যাত ‘রকস্টার’ সিনেমার অনুকরণ বা

অনুপ্রাণিত কোনো কাজ। তবে এমন গুঞ্জনকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন

নির্মাতা। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, বিশ্বজুড়ে একই নামে আরও অনেক সিনেমা রয়েছে এবং

ইমতিয়াজ আলীর কাজ তাঁর অত্যন্ত পছন্দের হলেও তাঁর এই ‘রকস্টার’ সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং

মৌলিক একটি কাহিনীচিত্র। এটি কোনো বিদেশি সিনেমার ছায়া অবলম্বনে নির্মিত নয়, বরং

এটি একজন বাংলাদেশি রকস্টারের জীবনের আবেগ, ভালোবাসা এবং বিয়োগান্তক ঘটনার এক অনন্য

চিত্রায়ন।

সিনেমার প্রেক্ষাপট নিয়ে নির্মাতা আরও জানান, ‘রকস্টার’ মূলত একজন শিল্পীর জীবনের

গভীরতম অনুভূতিগুলোর গল্প বলবে। যেখানে পারিবারিক টানাপোড়েন, ভালোবাসার জটিলতা এবং

ট্র্যাজেডি—সবকিছুর একটি সমন্বিত রূপ ফুটে উঠবে। দিনশেষে এটি সাধারণ মানুষের

জীবনেরই এক অসাধারণ গল্প হয়ে উঠবে বলে তিনি আশাবাদী। সিনেমাটি নির্মিত হচ্ছে দেশের

অন্যতম বৃহৎ প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সান মিউজিক অ্যান্ড মোশন পিকচার্স লিমিটেডের

ব্যানারে। এই মেগা প্রজেক্টের চিত্রনাট্য রচনার গুরুদায়িত্ব পালন করেছেন আয়মান আসিব

স্বাধীন। শাকিব খানের নতুন এই অবতার ঢালিউডের বাণিজ্যে নতুন কোনো রেকর্ড গড়বে কি

না, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষায় কোটি দর্শক।

পোস্টটি শেয়ার করুন