বিরোধী দলের আন্দোলনের হুমকির মধ্যে জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্টভাবে বলেছেন, গণভোট নিয়ে কোনও ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার সুযোগ নেই। তিনি জানান, ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত গণভোটের বৈধতা আদালতের বিচারাধীন রয়েছে এবং বিচার শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এটি একটি প্রমাণিত সত্য যে, গণভোটের জন্য অধ্যাদেশ জারি হয়েছিল এবং তা সম্পন্ন হয়েছে, যার বৈধতা স্বীকৃত।
সালাহউদ্দিন আহমদ এ কথা বলেছেন রোববার বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে একটি সংবাদ সম্মেলনে। সেখানে এসেছিলেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এবং সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে নতুন আইন না করলে এর ওপর ভিত্তি করে কোনো গণভোট হবেনা। তবে যদি কোন গণভোট জরুরি হয়, তাহলে তা সংবিধানের নির্দিষ্ট ধারায়—আদালত বা আইনি পদ্ধতিতে—সঞ্চালিত হবে। তিনি বলেন, সংবিধানে এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনও বাধা নেই—সরকার চাইলে ভবিষ্যতে অন্য কোনও বিষয়ের ওপর গণভোট করতে পারে, কিন্তু এজন্য পৃথক আইন আনতেই হবে। এটাই হলো বর্তমান ব্যবস্থার অনুমোদন, যেন কোনো বিভ্রান্তি না তৈরি হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে অন্তর্বর্তী সরকারের সকল কার্যক্রমের বৈধতা প্রমাণিত হবে, আর তখনই সেগুলি বৈধ বলে স্বীকৃতি পাবে। তিনি আশ্বাস দেন যে, সরকার গণভোট ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংবিধানিক বিষয়ে স্বচ্ছতা বজায় রেখে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতে এর জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থাপনা তৈরি করা হবে।
তিনি আরও বলেন, সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ—বিশেষ করে রাষ্ট্রপতি ও নির্বাহী ক্ষমতা সংক্রান্ত—উপরে গণভোটের ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। এর জন্য ইতিমধ্যে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে প্রস্তাব উঠানো হয়েছে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মতামত নেওয়া হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে সালাহউদ্দিন আহমদ উল্লেখ করেন, অতীতে যে গণভোট অধ্যাদেশ জারি হয়েছিল এবং তার আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তিনি স্পষ্ট করেন, ভবিষ্যতে গণভোট করলে তা অবশ্যই সংবিধানের কাঠামোর মধ্যে থাকতে হবে, অন্যথায় আইনি জটিলতা সৃষ্টি হবে।
অতএব, তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সংবিধান অনুযায়ী বা সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় গণভোটের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সঠিকতা নিশ্চিত হয়।





