বুধবার, ১৫ই এপ্রিল, ২০২৬, ২রা বৈশাখ, ১৪৩৩

কনকচাঁপার সঙ্গে খারাপ আচরণকারীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে: রুহুল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন জনপ্রিয় গীতশিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা। কিন্তু পরে দল তাকে মনোনীত করেনি। গতকাল, শনিবার ১১ এপ্রিল বেলা দেরাজে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় বিএনপি কার্যালয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মনোনয়ন জমা দিতে গেলে, কিছু নারী নেতা তার বিরুদ্ধে হট্টগোল এড়াতে পারেননি। তখন তারা বিভিন্ন অপ্রাসঙ্গিক স্লোগান দিতে থাকেন। কিন্তু নিজেদের সহযোগিতায় কনকচাঁপা অবশেষে মনোনয়ন ফর্ম জমা দিতে সক্ষম হন।

প্রধান নেত্রী ও দলের উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, যারা এই অপ্রত্যাশিত আচরণে লিপ্ত হয়েছে, তারা সাংস্কৃতিক দিক থেকে অসচেতন। তাদের এ ধরনের আচরণ অত্যন্ত অনুচিত। তিনি প্রশ্ন করেন, পৃথিবীর অন্য কোন দেশে কি এই ধরনের পরিস্থিতি দেখা যায় যেখানে একজন জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের সাথে এত অবজ্ঞা ও অবমাননা হয়? তিনি আরও বলেন, সঠিক আন্দোলন ও সংগ্রামের জন্য দেশবাসীর মাঝে বড় বড় শিল্পীদের অবদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

রিজভী বলেন, একজন শিল্পীর পক্ষে দেশের স্বার্থে রাজনীতি ও আন্দোলনে অংশ নেওয়া একটি বড় বিষয়। তিনি উদাহরণ দিয়ে উল্লেখ করেন, এমাজ উদ্দিন স্যারের মতো নেতারা রাস্তায়-মিছিলে না দাঁড়িয়ে থাকলেও, তারা বিএনপির পক্ষে কাজ করে যান। এই শিল্পীরাও রাষ্ট্রের আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে থাকেন, এতে দেশের ভেতর ইতিবাচক বার্তা যায়।

তিনি আরও বলেন, যারা এই অবজ্ঞাকর আচরণ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে, কনকচাঁপা সম্প্রতি তার ফেসবুক পোস্টে নিজের বিরুদ্ধে ঘটে যাওয়া অন্যায় ও অবিচার প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রাখেন এবং দলের সিদ্ধান্তের প্রতি নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। ২০১৩ সালে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু তাঁর আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়াই তাকে এই পক্ষে উদ্বুদ্ধ করেন। এরপর ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে তিনি একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নমিনেশন লাভ করেন, যা সহজে হয়নি।

কনকচাঁপা তাঁর দীর্ঘ বক্তব্যে উল্লেখ করেন, তাঁর জীবন অনেক ত্যাগে ভরপুর। তিনি মানসিক ও অর্থনৈতিকভাবে অনেক ক্ষতি সহ্য করেছেন। গান গাওয়া থেকে একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছেন। পরিবারসহ মোটা কাজের জন্য অন্য উপায় অবলম্বন করেছেন। তিনি বলেন, এই সব ক্ষতি ও ত্যাগের জন্য অনেক সময়ই নিজেকে মূল্যায়ন করার সুযোগ পাননি।

নির্বাচনী প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার পরও দল তার মনোনয়ন দেয়নি, যা তিনি মান্য করেন। তিনি বলেন, এই সব অন্যায় ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তিনি আল্লাহর ওপর আস্থা রেখেছেন। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হলে খুব দুঃখিত হবেন, তবে নিজের বিশ্বাসে অটল থাকবেন। কনকচাঁপা বলেন, তিনি সবসময় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন এবং নেতা-কর্মীদের জন্য কাজ করে গেছেন, যদিও কিছু নেতাকর্মী তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

পোস্টটি শেয়ার করুন