ঢাকাই চলচ্চিত্রের মেগাস্টার শাকিব খানের আসন্ন চলচ্চিত্র ‘রকস্টার’ নিয়ে দর্শকদের
মাঝে শুরু থেকেই এক ধরণের বাড়তি উত্তেজনা বিরাজ করছে। একজন সংগীতশিল্পীর জীবনের
গল্প নিয়ে নির্মিতব্য এই সিনেমাটির দ্বিতীয় অফিশিয়াল পোস্টার আজ বৃহস্পতিবার
সন্ধ্যায় প্রকাশ করা হয়েছে। প্রথম পোস্টারে শাকিব খানকে এক বিধ্বংসী ও ‘রাফ অ্যান্ড
টাফ’ লুকে দেখা গেলেও, দ্বিতীয় এই পোস্টারটিতে ফুটে উঠেছে এক স্নিগ্ধ রোমান্টিক
রসায়ন। যেখানে প্রকৃতির মনোরম পরিবেশে শাকিব খানের কাঁধে মাথা রেখে এক অন্যরকম
আবেশে জড়িয়ে আছেন অভিনেত্রী সাবিলা নূর।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টারটি শেয়ার হওয়ার পরপরই তা নেটিজেনদের নজর কেড়েছে।
পোস্টারে দেখা যায়, সবুজে ঘেরা এক নির্জন স্থানে শাকিব খান ও সাবিলা নূর আবেগঘন
মুহূর্তে বসে আছেন। সাবিলা চোখ বন্ধ করে শাকিবের কাঁধে মাথা রেখেছেন এবং শাকিবও
তাঁর স্পর্শ অনুভব করে প্রশান্তিতে চোখ বুজে আছেন। এই রোমান্টিক মুহূর্তটির সাথে
মিল রেখে শাকিব খান তাঁর ফেসবুক পেজে লিখেছেন এক কাব্যিক ক্যাপশন—‘জ্বলে আগুন, থামে
সময়, চলি আমি তাই তো শুধু তোমারই সাথে।’ এই একটি বাক্যই যেন সিনেমার গল্পের গভীরতা
আর প্রেমের তীব্রতাকে প্রকাশ করে দিয়েছে।
শাকিব খান ও সাবিলা নূর জুটির এটি দ্বিতীয় কাজ। গত বছর মুক্তিপ্রাপ্ত ‘তাণ্ডব’
সিনেমায় তাঁদের প্রথমবার একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল। সেই রসায়ন দর্শকপ্রিয়তা পাওয়ার
কারণেই ‘রকস্টার’ সিনেমায় আবারও এই জুটির ওপর বাজি ধরেছেন নির্মাতারা। সিনেমাটির
দৃশ্যধারণের কাজও বেশ গুরুত্বের সাথে এগিয়ে চলছে। গত মাসে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন মনোরম
লোকেশনে শুটিং শুরুর পর বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ছবিটির গুরুত্বপূর্ণ
দৃশ্যগুলোর চিত্রায়ন চলছে।
উল্লেখ্য যে, গত ২৮ মার্চ শাকিব খানের জন্মদিনে সিনেমাটির প্রথম পোস্টার মুক্তি
পেয়েছিল। সেখানে শাকিব খানকে দেখা গিয়েছিল পুরোপুরি এক রকস্টার সুলভ অবয়বে—চোখে
কালো চশমা, শরীরজুড়ে ট্যাটু, গলায় মোটা চেইন আর পায়ে আধুনিক স্নিকার্স পরে এক
আগ্রাসী ভঙ্গিতে বসে ছিলেন তিনি। দুই পোস্টারের এই বৈপরীত্য মূলত একজন শিল্পীর
জীবনের দুটি ভিন্ন দিককেই ফুটিয়ে তুলছে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র বোদ্ধারা। একদিকে
মঞ্চের সেই উন্মাদনা, অন্যদিকে ব্যক্তিগত জীবনের প্রেম ও দীর্ঘশ্বাস।
সিনেমাটির নির্মাণ প্রক্রিয়ার পেছনে রয়েছে এক চমকপ্রদ গল্প। পরিচালক আজমান রুশো
সম্প্রতি জানিয়েছেন যে, ‘রকস্টার’ সিনেমাটি মূলত শাকিব খানেরই মস্তিষ্কপ্রসূত। তিনি
নিজেই এমন একটি চরিত্রে অভিনয়ের আকাঙ্ক্ষা নির্মাতার কাছে প্রকাশ করেছিলেন। রুশো
নিজে আগে পেশাদার মিউজিশিয়ান হওয়ায় শাকিবের এই প্রস্তাবকে লুফে নেন। তিনি মনে করেন,
একজন শিল্পীর পর্দার পেছনের সংগ্রাম ও ব্যক্তিগত জীবনের ট্র্যাজেডি তুলে ধরার জন্য
এটি একটি আদর্শ প্রজেক্ট। সান মিউজিক অ্যান্ড মোশন পিকচার্স লিমিটেডের ব্যানারে
নির্মিতব্য এই সিনেমাটি আগামী কোরবানির ঈদে দর্শকদের এক নতুন অভিজ্ঞতা উপহার দেবে
বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। সব মিলিয়ে ‘রকস্টার’ এখন ঢাকাই সিনেমার
সবচেয়ে আলোচিত প্রজেক্টগুলোর একটি।





