শুক্রবার, ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬, ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩

টি-টোয়েন্টিতে ফিফটির ‘সেঞ্চুরি’: ওয়ার্নার-কোহলিদের অভিজাত ক্লাবে বাবর আজম

আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ব্যাটার বাবর আজম টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এক অনন্য ও

ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) চলতি আসরে কোয়েটা

গ্ল্যাডিয়েটর্সের বিপক্ষে বুধবার রাতে এক অনবদ্য ইনিংস খেলার পথে তিনি পূর্ণ করেন

তাঁর শততম টি-টোয়েন্টি হাফ সেঞ্চুরি। এর মাধ্যমে বিশ্বের মাত্র চতুর্থ ব্যাটার

হিসেবে এই ফরম্যাটে ফিফটির ‘সেঞ্চুরি’ করার বিরল কৃতিত্ব অর্জন করলেন পেশোয়ার

জালমির এই অধিনায়ক। বাবরের এই অর্জন তাঁকে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণের

কিংবদন্তিদের সারিতে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে বাবর আজমের আগে এই মাইলফলক স্পর্শ করতে পেরেছেন কেবল

তিনজন লিজেন্ডারি ক্রিকেটার। এই তালিকায় ১১৬টি ফিফটি নিয়ে সবার শীর্ষে রয়েছেন

অস্ট্রেলিয়ার বিধ্বংসী ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার। তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন

ভারতীয় ক্রিকেট তারকা বিরাট কোহলি, যাঁর ঝুলিতে রয়েছে ১০৭টি ফিফটি। আর ইংল্যান্ডের

জস বাটলার ঠিক ১০০টি ফিফটি নিয়ে তালিকার তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছেন। বাবর আজমও এখন

বাটলারের সমান ১০০টি ফিফটি নিয়ে এই তালিকায় নাম লিখিয়েছেন এবং তাঁর বর্তমান ফর্ম

বিবেচনায় অচিরেই তিনি আরও ওপরে উঠে আসবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মাইলফলক ছোঁয়ার এই রাতে মাঠের লড়াইয়েও দাপট দেখিয়েছেন বাবর আজম। প্রথমে ব্যাটিং

করতে নেমে কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্স সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৫৪ রানের একটি মাঝারি লক্ষ্য

দাঁড় করায়। রান তাড়া করতে নেমে ওপেনিং জুটিতেই পেশোয়ার জালমিকে শক্ত ভিত এনে দেন

বাবর। মিডল অর্ডারে কুশল মেন্ডিস ২১ রান করে আউট হলেও, অ্যারন হার্ডিকে সঙ্গে নিয়ে

জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন অধিনায়ক। বাবর আজম শেষ পর্যন্ত ৭১ রানে অপরাজিত থাকেন, যা

ছিল তাঁর টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের শততম অর্ধশতক। তাঁর এই দায়িত্বশীল ব্যাটিং

পেশোয়ারের জয়কে অত্যন্ত সহজ করে তোলে।

এই অসাধারণ জয়ের ফলে পাকিস্তান সুপার লিগের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান আরও সুসংহত

করল পেশোয়ার জালমি। বর্তমানে ৭ ম্যাচে অংশ নিয়ে ৬টি জয় ও একটি ড্র-এর সমীকরণে

সর্বোচ্চ ১৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের এক নম্বর অবস্থানে রয়েছে বাবর আজমের দল। ব্যক্তিগত

রেকর্ডের পাশাপাশি দলের এমন ধারাবাহিক সাফল্য পেশোয়ার সমর্থকদের মধ্যে শিরোপা জয়ের

আশা জাগিয়ে তুলেছে। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, বাবর যেভাবে একের পর এক রেকর্ড ভেঙে

নিজেকে সমৃদ্ধ করছেন, তা পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ ক্রিকেটের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক এক

সংকেত। আপাতত শততম ফিফটির এই গৌরবময় অর্জনে ক্রিকেট বিশ্ব থেকে প্রশংসায় ভাসছেন এই

তারকা ক্রিকেটার।

পোস্টটি শেয়ার করুন