শনিবার, ২৫শে এপ্রিল, ২০২৬, ১২ই বৈশাখ, ১৪৩৩

এক ম্যাচে কোহলির তিন বিশ্বরেকর্ড

রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর মহাতারকা বিরাট কোহলি ব্যাট হাতে আবারও নিজের

শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছেন। গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলে তিনি

কেবল দলকে জয়ই এনে দেননি, বরং এক ম্যাচেই তিন তিনটি অনন্য রেকর্ড নিজের করে

নিয়েছেন। ঘরের মাঠ এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে তার ৮১ রানের অনবদ্য ইনিংসটি সাই

সুদর্শনের অনবদ্য সেঞ্চুরি এবং গুজরাটের ২০৫ রানের বিশাল সংগ্রহকেও ম্লান করে

দিয়েছে। কোহলির এমন রেকর্ডময় দিনে বেঙ্গালুরু ৫ উইকেটের জয় তুলে নিয়ে মাঠ ছাড়ে।

ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে গুজরাট টাইটান্সের সাই সুদর্শন ৫৮ বলে ১০০ রানের ঝড়ো

ইনিংস খেলে দলের সংগ্রহ দুইশ পার করেন। জবাবে লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বেঙ্গালুরুর

হয়ে ওপেনিংয়ে নামা বিরাট কোহলি শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন। তিনি মাত্র ৪৪

বলে ৮টি চার ও ৪টি ছক্কার সাহায্যে ৮১ রান করেন। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন দেবদূত

পাদিক্কাল, যার ব্যাটে আসে ২৭ বলে ৫৫ রান। মূলত এই দুই ব্যাটারের দৃঢ়তায় বেঙ্গালুরু

৭ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়।

এই ইনিংসের মাধ্যমেই কোহলি বিশ্বের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে নির্দিষ্ট কোনো দেশে

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ১০ হাজার রানের অভাবনীয় মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। ভারতের মাটিতে

আইপিএল, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ঘরোয়া ক্রিকেট এবং জাতীয় দলের হয়ে খেলা সব ম্যাচ মিলিয়ে

তিনি এই কীর্তি গড়েন। তালিকায় তার পেছনে থাকা রোহিত শর্মার ভারতের মাটিতে রান

সংখ্যা ৮ হাজার ৫৬৩। নির্দিষ্ট দেশে রানের এই বিশ্বরেকর্ড কোহলিকে টি-টোয়েন্টি

ফরম্যাটে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

বাউন্ডারি মারার ক্ষেত্রেও কোহলি এদিন নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। ম্যাচের দ্বিতীয়

ওভারে কাগিসো রাবাদাকে চার মেরে তিনি আইপিএলের ইতিহাসে প্রথম ব্যাটার হিসেবে ৮০০টি

চার মারার রেকর্ড গড়েন। এরপর রশিদ খানকে ছক্কা মেরে তিনি আইপিএলে কোনো একটি

নির্দিষ্ট দলের হয়ে (আরসিবি) ৩০০ ছক্কা মারার প্রথম নজির স্থাপন করেন। আইপিএলে

ছক্কার সংখ্যায় বর্তমানে ক্রিস গেইল ও রোহিত শর্মার পরেই কোহলির অবস্থান, তবে

নির্দিষ্ট ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে ৩০০ ছক্কা মারার কীর্তি আর কারো নেই।

কোহলির এই রেকর্ডময় পারফরম্যান্স কেবল ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং বেঙ্গালুরুর জন্য

টুর্নামেন্টে টিকে থাকার লড়াইয়ে বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। ৩৭ বছর বয়সেও মাঠে

তার ক্ষিপ্রতা এবং বড় লক্ষ্য তাড়ায় মাথা ঠান্ডা রাখার সামর্থ্য দর্শকদের মুগ্ধ

করেছে। আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি রানের মালিক কোহলি এখন কেবল নিজের রেকর্ডকেই

প্রতিনিয়ত ছাড়িয়ে যাচ্ছেন। সামগ্রিকভাবে, চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে কোহলির এই

অতিমানবিক ব্যাটিং প্রদর্শনী ক্রিকেটের ইতিহাসের পাতায় আরও একবার উজ্জ্বল হয়ে

থাকবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন