মঙ্গলবার, ২৮শে এপ্রিল, ২০২৬, ১৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩

ক্রিকেটের উন্নয়নের লক্ষ্যে বিসিবি সভাপতি পদে লড়বেন তামিম ইকবাল

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাডহক কমিটির বর্তমান সভাপতি এবং সাবেক জাতীয়

অধিনায়ক তামিম ইকবাল আসন্ন বিসিবি নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার

আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন। সম্প্রতি ক্রিকেটভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম

ইএসপিএন ক্রিকইনফোকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত

করেন। তামিম উল্লেখ করেন যে, তাঁর ওপর একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব

ন্যস্ত করা হয়েছে এবং দেশের ক্রিকেটের সাথে সম্পৃক্ত সকলে একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য

নির্বাচন পাওয়ার অধিকার রাখেন।

পূর্ববর্তী বোর্ড প্রশাসনের সমালোচনা করে তামিম জানান যে, সম্প্রতি দেশের ক্রিকেট

এক ধরনের স্থবিরতার মধ্য দিয়ে গেছে, যার ফলে খেলোয়াড়রা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

তিনি ভবিষ্যতে এমন কোনো পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি দেখতে চান না। নির্বাচনে জয়লাভ করে

যদি পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পান, তবে দেশের ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদী ও

টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে তৈরি করা তাঁর নিজস্ব পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে কাজ শুরু

করবেন বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। মূলত প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমেই তিনি

মাঠের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে আগ্রহী।

বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক এবং বোর্ড সভাপতির দায়িত্বের মধ্যকার মৌলিক পার্থক্য নিয়ে

তামিম তাঁর ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অধিনায়ক হিসেবে ভাবনাগুলো

সাধারণত কেবল খেলোয়াড় ও মাঠের কৌশলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। তবে বোর্ড সভাপতির

দায়িত্ব অনেক বেশি ব্যাপক ও জটিল, যেখানে কোচিং স্টাফ থেকে শুরু করে বোর্ডের সাধারণ

কর্মীদের উন্নয়ন এবং সামগ্রিক অবকাঠামো নিয়ে ভাবতে হয়। এখানে ব্যক্তিগত আবেগের চেয়ে

দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ স্বার্থকে বড় করে দেখে বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত নেওয়া অপরিহার্য

বলে তিনি মনে করেন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে

দেওয়ার পর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) তামিম ইকবালকে প্রধান করে ১১ সদস্যের একটি

অ্যাডহক কমিটি গঠন করে। এই কমিটিকে তিন মাসের মধ্যে পরবর্তী নির্বাচন সম্পন্ন করার

সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তবে তামিম জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই নির্বাচনের

যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষ করতে তাঁরা কাজ করছেন। দেশের ক্রিকেটে নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে

গতিশীলতা ফিরিয়ে আনাই এখন তাঁর এই নির্বাচনি যাত্রার প্রধান উদ্দেশ্য।

পোস্টটি শেয়ার করুন