মঙ্গলবার, ২৮শে এপ্রিল, ২০২৬, ১৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩

দিল্লি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ‘মানুষের বাগান’ ও ‘নীলপদ্ম’

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ‘দিল্লি ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল

২০২৬’-এ অংশ নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ইমপ্রেস

টেলিফিল্মের দুটি আলোচিত চলচ্চিত্র। উৎসবের এই বিশেষ আসরে প্রদর্শনের জন্য

নির্বাচিত হয়েছে নির্মাতা নূরুল আলম আতিকের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত চলচ্চিত্র ‘মানুষের

বাগান’ এবং তৌফিক এলাহি পরিচালিত ‘নীলপদ্ম’। আন্তর্জাতিক এই মঞ্চে বাংলাদেশের

ভিন্নধর্মী চলচ্চিত্রের প্রতিনিধিত্ব করার বিষয়টি চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক

ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

উৎসবের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ৫ মে স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৫৩ মিনিটে

‘মানুষের বাগান’ চলচ্চিত্রটি প্রদর্শিত হবে। সমাজের বিভিন্ন স্তরের ও বিচিত্র

শ্রেণির মানুষের জীবনসংগ্রাম এবং তাদের মধ্যকার জটিল আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে এই সিনেমার

কাহিনী আবর্তিত হয়েছে। এতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন প্রসূন আজাদ,

মনোজ প্রামাণিক, জ্যোতিকা জ্যোতি, স্বাগতা, মুনিরা মিঠু, মাহমুদ আলম ও দীপান্বিতা

মার্টিনসহ আরও অনেকে। এই সিনেমার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো জনপ্রিয় ব্যান্ড

‘চিরকুট’-এর গাওয়া শিরোনাম সংগীত, যা শীঘ্রই দেশের প্রেক্ষাগৃহেও মুক্তির অপেক্ষায়

রয়েছে।

অন্যদিকে, উৎসবের পরবর্তী দিন অর্থাৎ ৬ মে সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে প্রদর্শিত হবে

তৌফিক এলাহি পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘নীলপদ্ম’। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর কর্মীদের

জীবনযাত্রা, সামাজিক পরিচয় এবং তাদের মানবিক অধিকারের সংকটের ওপর দীর্ঘ দুই বছর

গবেষণা চালিয়ে এই চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করা হয়েছে। সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্র নীলার

সুন্দর ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আকুতি এবং সমাজের নিষ্ঠুর বাস্তবতায় পুনরায় সেই

অন্ধকার জীবনেই ফিরে আসার করুণ আখ্যান এখানে চিত্রায়িত হয়েছে। গত বছর দেশে মুক্তি

পাওয়া এই চলচ্চিত্রে রুনা খান, রাশেদ মামুন অপু, রোকেয়া প্রাচী ও শাহেদ আলীর মতো

শিল্পীরা অনবদ্য অভিনয় করেছেন।

ইমপ্রেস টেলিফিল্মের এই দুটি চলচ্চিত্র এর আগেও দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন মর্যাদাপূর্ণ

উৎসবে প্রদর্শিত ও প্রশংসিত হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, দিল্লির এই উৎসবে

ভিন্নধর্মী গল্প এবং নিপুণ নির্মাণশৈলীর মাধ্যমে বিশ্ব দর্শকদের সামনে বাংলাদেশের

সমকালীন জীবনবাস্তবতার নতুন এক অভিজ্ঞতা তুলে ধরা সম্ভব হবে। মূলত শেকড় সন্ধানী এবং

সামাজিক দায়বদ্ধতার গল্প হওয়ার কারণে চলচ্চিত্র দুটি বিচারকদের নজর কেড়েছে। এই

আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য যেমন গৌরবের, তেমনি এটি

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশীয় সিনেমার শৈল্পিক সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করবে বলে মনে করা

হচ্ছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন