মঙ্গলবার, ২৮শে এপ্রিল, ২০২৬, ১৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩

ব্রেন্টফোর্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের পথে আরও একধাপ এগিয়ে ম্যানইউ

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে তাদের জয়ের ধারা বজায় রেখে আগামী

মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল করেছে। সোমবার রাতে ওল্ড

ট্র্যাফোর্ডে ব্রেন্টফোর্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে টেবিলের তিন নম্বর স্থানটি

নিজেদের দখলে রেখেছে মাইকেল ক্যারিকের দল। এই জয়ের ফলে ৩৪ ম্যাচ শেষে ৬১ পয়েন্ট

নিয়ে ইউনাইটেড এখন লিভারপুল ও অ্যাস্টন ভিলার চেয়ে ৩ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছে। লিগের

পরিবর্তিত নিয়ম অনুযায়ী শীর্ষ পাঁচটি দল সরাসরি ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্বের আসরে খেলার

সুযোগ পাবে, আর ষষ্ঠ স্থানে থাকা ব্রাইটনের চেয়ে ১১ পয়েন্টে এগিয়ে থাকায় ইউনাইটেডের

সেই লক্ষ্য এখন অনেকটাই হাতের নাগালে।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে রেড ডেভিলরা ১১ মিনিটেই লিড নিতে সক্ষম

হয়। অধিনায়ক ব্রুনো ফের্নান্দেজের কর্নার থেকে হ্যারি ম্যাগুইরের বাড়ানো হেড পাসে

চমৎকার এক হেডে জাল কাঁপান ব্রাজিলিয়ান তারকা কাসেমিরো। ক্লাবের সাথে চুক্তির শেষ

মৌসুমে এমন গুরুত্বপূর্ণ গোল করে সমর্থকদের ভালোবাসায় সিক্ত হন তিনি। এরপর বিরতির

ঠিক আগে ৪৩ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তরুণ স্ট্রাইকার বেঞ্জামিন সেসকো। একটি

কাউন্টার অ্যাটাক থেকে বল নিয়ে বক্সে ঢুকে ব্রুনো ফের্নান্দেজ ঠাণ্ডা মাথায় সেসকোকে

পাস দেন, যা থেকে নিখুঁত শটে গোল করেন এই স্লোভেনিয়ান ফরোয়ার্ড। এটি ছিল চলতি

মৌসুমে ব্রুনোর ১৯তম অ্যাসিস্ট।

ইউনাইটেডের এই জয়ের পেছনে গোলরক্ষক সেনে লামেন্সের ভূমিকা ছিল অনন্য। পুরো ম্যাচে

তিনি পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে নিশ্চিত গোল হজম করা থেকে বাঁচিয়ে রাখেন।

বিশেষ করে ব্রেন্টফোর্ড স্ট্রাইকার ইগোর থিয়াগো ও মাইকেল কায়োদেকে বেশ কয়েকবার

গোলবঞ্চিত করেন তিনি। এমনকি সতীর্থ এইডেন হিভেনের গায়ে লেগে বল জালে ঢোকার উপক্রম

হলেও দ্রুত প্রতিক্রিয়ায় দলকে রক্ষা করেন লামেন্স। ম্যাচের ৮৭ মিনিটে

ব্রেন্টফোর্ডের মাথিয়াস জেনসেন একটি গোল শোধ করলে শেষ দিকে কিছুটা উত্তেজনা তৈরি

হয়। তবে ইনজুরি সময়ে মিকেল ডামসগার্ডের একটি শক্তিশালী হেড রুখে দিয়ে লামেন্স

ইউনাইটেডের পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করেন।

ম্যাচ শেষে কাসেমিরো তাঁর অনবদ্য পারফরম্যান্সের জন্য ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন।

অন্যদিকে অধিনায়ক ব্রুনো ফের্নান্দেজ এখন এক অনন্য রেকর্ডের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছেন;

আর মাত্র একটি অ্যাসিস্ট করলে তিনি এক মৌসুমে কেভিন ডি ব্রুইনা ও থিয়েরি অঁরির গড়া

২০টি অ্যাসিস্টের ঐতিহাসিক রেকর্ডে ভাগ বসাবেন। লিগের বাকি ম্যাচগুলোতে এই

ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে ইউনাইটেডের জন্য চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফেরা এখন কেবল

সময়ের ব্যাপার। মাইকেল ক্যারিকের অধীনে দলের এই উত্থান এবং অভিজ্ঞ ও তরুণ

খেলোয়াড়দের সঠিক সমন্বয় সমর্থকদের মাঝে নতুন করে প্রাণের সঞ্চার করেছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন