বুধবার, ২৯শে এপ্রিল, ২০২৬, ১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩

পাকিস্তানের হামলায় আফগানিস্তানে নিহত ৭

আফগানিস্তানের পূর্ব সীমান্তবর্তী কুনার প্রদেশে হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। এই

হামলায় অন্তত সাত বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। সোমবারের (২৭ এপ্রিল) এই হামলায় আহত

হয়েছেন আরও অন্তত ৮৫ জন। প্রাদেশিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বরাতে তথ্য জানিয়েছে

বার্তা সংস্থা এএফপি।

খবরে বলা হয়েছে, হতাহতদের মধ্যে নারী এবং শিশুও রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে

প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে শুরু হওয়া সংঘাতের ভয়াবহতা সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে

কিছুটা কমলেও সোমবারের এই হামলা নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

আফগান সরকারের দাবি, পাকিস্তানি বাহিনী আসাদাবাদে অবস্থিত একটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং

আবাসিক এলাকা লক্ষ্য করে মর্টার শেল ও রকেট হামলা চালিয়েছে। কুনার প্রদেশের

জনস্বাস্থ্য পরিচালক মুজাফফর মুখলিস জানান, সীমান্ত এলাকা ও প্রাদেশিক রাজধানী থেকে

মোট সাতটি মরদেহ এবং ৮৫ জন আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন,

হতাহতদের প্রত্যেকেই সাধারণ বেসামরিক নাগরিক।

তবে পাকিস্তান সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় এই অভিযোগ অস্বীকার করে একে ‘নির্লজ্জ

মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেছে। তাদের দাবি, কোনো আবাসিক এলাকা বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে

হামলা চালানো হয়নি।

হাসপাতালের শয্যায় আহত স্বজনদের পাশে থাকা সাধারণ মানুষের কণ্ঠে ক্ষোভ ও আতঙ্কের

সুর শোনা গেছে। ২২ বছর বয়সী শ্রমিক সাহাতুল্লাহ জানান, বাইরে খেলার সময় তার ভাতিজা

গোলার আঘাতে আহত হয়। একই চিত্র দেখা গেছে শিক্ষক জমারাই কুনারির ক্ষেত্রেও। তার এক

ভাই গোলার আঘাতে গুরুতর আহত এবং অন্য এক আত্মীয় নিহত হয়েছেন।

কুনার প্রদেশের তথ্য প্রধান নাজিবুল্লাহ হানিফ জানিয়েছেন, আসাদাবাদ ছাড়াও তিনটি

জেলায় হামলা চালানো হয়েছে, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত

হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় ওই এলাকায় পাকিস্তানি ড্রোনের আনাগোনা এবং আফগান বাহিনীর

ব্যাপক নিরাপত্তা তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে।

গত মার্চ মাসে চীনের মধ্যস্থতায় একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি এবং সংঘাত না বাড়ানোর

সমঝোতা হলেও সীমান্তে অস্থিরতা থামেনি। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, দুই মাস ধরে তারা

অত্যন্ত নাজুক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।

২০২১ সালে তালেবানরা কাবুলের ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ইসলামাবাদের সঙ্গে সম্পর্কের

টানাপোড়েন শুরু হয়। বিশেষ করে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানকে (টিটিপি) আশ্রয় দেওয়ার

অভিযোগে আফগানিস্তানকে দুষছে পাকিস্তান। অন্যদিকে আফগান কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ

অস্বীকার করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তাদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের পাল্টা অভিযোগ

তুলেছে। গত অক্টোবর থেকে সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধ থাকায় দুই দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ

মানুষের জীবনযাত্রা চরম সংকটের মুখে পড়েছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন