দেশের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে গ্যাস ও তেলের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে গভীর শিলাস্তরে
উচ্চ প্রযুক্তির অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই
পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তিনটি নতুন অনুসন্ধান কূপ খননের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার
মধ্যে দুটি গ্যাসের এবং একটি তেলের কূপ রয়েছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত
মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি গৃহিত হয়। প্রকল্পটির মোট
ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৪৫ কোটি ৭১ লাখ ৯৫ হাজার ৬৩৫ টাকা এবং তিনটি কূপই খননের দায়িত্ব
পেয়েছে চীনের দুটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান।
বৈঠক শেষে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীনে
‘৩টি অনুসন্ধান কূপ খনন’ প্রকল্পের আওতায় শ্রীকাইল ডিপ-১ এবং মোবারকপুর ডিপ-১ নামক
দুটি কূপ টার্ন-কি ভিত্তিতে খনন করা হবে। আন্তর্জাতিক দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সব
দিক থেকে উপযোগী হিসেবে বিবেচিত হয়ে চীনের ‘সিএনপিসি চুংকুইং ড্রিলিং ইঞ্জিনিয়ারিং
কোম্পানি লিমিটেড’ এই কাজ করার কার্যাদেশ পেয়েছে। এই দুটি কূপের খনন কাজে সরকারের
ব্যয় হবে ৫ কোটি ৯৪ লাখ ৭০ হাজার ৫৭৯ মার্কিন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭১৩
কোটি ৬৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
একই সভায় জ্বালানি বিভাগের অপর এক প্রস্তাবের ভিত্তিতে ‘সিলেট-১২ নং কূপ খনন’
প্রকল্পের ঠিকাদার নিয়োগের বিষয়টিও চূড়ান্ত করা হয়। এই কূপটির খনন ও আনুসাঙ্গিক
কার্যাদি সম্পাদনের জন্য সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে চীনের অপর একটি প্রতিষ্ঠান
‘সাইনোপ্যাক ইন্টারন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম সার্ভিস করপোরেশন’ কে নির্বাচন করা হয়েছে।
এই প্রকল্পের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৬২ লাখ ২২ হাজার ৪৫০ ডলার, যার স্থানীয়
মুদ্রায় পরিমাণ ২৩২ কোটি ৭ লাখ ২৫ হাজার ৬৩৫ টাকা। উভয় ক্ষেত্রেই চীনের কারিগরি
দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ওপর আস্থা রেখেছে সরকার।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গভীর শিলাস্তরে এই অনুসন্ধান কূপগুলোর খনন
কার্যক্রম সফল হলে দেশের জ্বালানি ঘাটতি মেটানো সম্ভব হবে এবং আমদানিনির্ভরতা
উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে। সরাসরি বৈদেশিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এই প্রকল্পগুলো
দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়িত হলে জাতীয় গ্রিডে নতুন করে গ্যাস ও তেলের সরবরাহ যুক্ত
হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। বর্তমানে দেশীয় খনিজ সম্পদের সঠিক উত্তোলনের মাধ্যমে
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা
এই উদ্যোগকে দেশের খনিজ সম্পদ খাতের এক বড় নীতিগত সাফল্য হিসেবে দেখছেন।





