আগামী ৪ মে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেস ও
বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত চূড়ান্ত রূপ নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দিবাগত
রাতে কলকাতার ভবানীপুরে ইভিএম রাখা স্ট্রং রুমের সামনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা
বন্দ্যোপাধ্যায়ের সশরীরে উপস্থিত হওয়াকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে।
সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস হাই স্কুলের বাইরে দুই দলের কর্মী-সমর্থকদের মারমুখী
অবস্থানের কারণে সেখানে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করতে হয়। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন
যে, ইভিএমে কারচুপির খবর পেয়ে তিনি সেখানে ছুটে গেলেও কেন্দ্রীয় বাহিনী তাকে প্রথমে
বাধা দেয়। পরবর্তীতে রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমতি নিয়ে তিনি ভেতরে প্রবেশ করেন এবং
হুঁশিয়ারি দেন যে, ভোট লুটের চেষ্টা হলে তিনি শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে
যাবেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অবস্থানের পরপরই তৃণমূলের শীর্ষ নেতারা নেতাজি ইনডোর
স্টেডিয়ামের কাছে ধর্নায় বসেন। দলটির পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা
হয় যে, নির্বাচন কমিশনের নাকের ডগায় বিজেপি কর্মীরা সিসিটিভি ক্যামেরার সামনেই সিল
করা ব্যালট বাক্স ভাঙার চেষ্টা করছে।
তৃণমূল এই ঘটনাকে গণতন্ত্র হত্যার চেষ্টা হিসেবে অভিহিত করে পশ্চিমবঙ্গের প্রধান
নির্বাচন কর্মকর্তার জবাবদিহি দাবি করেছে। তাদের মতে, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও
অর্থের প্রভাব খাটিয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর এখন বিজেপি সরাসরি ইভিএম কারচুপির মতো মরিয়া
পথ বেছে নিয়েছে।
তৃণমূলের এই কঠোর অবস্থান ও অভিযোগের জবাবে পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছেন বিজেপি নেতা
শুভেন্দু অধিকারী। তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী’ বলে কটাক্ষ
করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান যে, ভবানীপুরসহ পুরো রাজ্যের ভোটারদের আশ্বস্ত
করা হচ্ছে যেন তৃণমূল প্রার্থী কোনো অন্যায্য সুবিধা নিতে না পারেন।
বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, পরাজয় নিশ্চিত বুঝেই তৃণমূল এখন ইভিএম ও নির্বাচন কমিশনের
ওপর দোষ চাপিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। ভোটগণনার ঠিক আগমুহূর্তে দুই
শিবিরের এমন পাল্টাপাল্টি অভিযোগে পুরো রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন টানটান
উত্তেজনা বিরাজ করছে।





