ফেনীর পাঁচগাছিয়ায় এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে পুলিশ এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে ব্রিকফিল্ডের পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংকের পাশে, যেখানে স্থানীয়রা শিশুটির মরদেহ পান। এ দুর্ঘটনায় অভিযুক্ত রাসেল (১৮) নামে গৌরীপুরের একটি গ্রাম থেকে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করা যুবককে আটক করে পুলিশ।
গত বুধবার (২৭ আগস্ট) রাতে, ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের মাথিয়ারা গ্রামে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শিশুটির পরিবার জানায়, শিশুটি সেদিন দুপুরে বাসায় থেকে নিখোঁজ হয়। সন্ধ্যার দিকে এলাকায় মাইকিং করে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়, কিন্তু সন্ধানে না পেলে রাতের অন্ধকারে মরদেহটি পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, সেপটিক ট্যাংকের ভিতরে তার মরদেহ ডুবে ছিল।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শিশুটির শরীরে কোনো কাপড় ছিল না, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ধর্ষণের পরে তাকে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত রাসেল তার জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে, শিশুটিকে দুপুরে খাবার দেওয়ার পর ধর্ষণ করে। এরপর তাকে হত্যা করে মরদেহ সেপটিক ট্যাংকের ভিতরে ফেলে দেয়। রাসেল গৌরীপুরের একটি গ্রাম থেকে আসে এবং দীর্ঘদিন ধরে ওই ব্রিকফিল্ডে কাজ করে আসছিল।
শিশুটির মা, মুক্তা বেগম, বলেন, ‘আমার মেয়ে দুপুরে হারিয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজি করে সন্ধান পাইনি। রাতে তার মরদেহ উদ্ধার করলাম। আমি চাই, আমার মেয়েকে যারা এই ঘৃণ্য কাজটি করেছে, তাদের কড়াকড়ি শাস্তি দেওয়া হোক। আমি তার জন্য কঠোর বিচার চাই।’
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। অভিযুক্ত রাসেলকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। প্রাথমিক স্বীকারোক্তিতে সে ধর্ষণ ও হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।
এই ঘটনাটি এলাকায় গভীর আঘাতের সৃষ্টি করেছে, যেখানে সবাই সমাজের নিরাপত্তা ও শিশুদের সুরক্ষার জন্য করুণ ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।