বিশ্বব্যাপী চালের বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাংলাদেশের বন্দরগুলিতে চাল আমদানির ধারা পুনরায় শুরু হয়েছে। দেশের প্রধান ও সর্ববৃহৎ বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে গত এক সপ্তাহে ভারত থেকে মোট ১৪৬০ মেট্রিক টন চাল আমদানি হয়েছে। বিশেষ করে আজ বৃহস্পতিবার, সপ্তাহের শেষ দিনে, ১২ টি ট্রাকের মাধ্যমে ৪২০ মেট্রিক টন চাল এখানে প্রবেশ করে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন।
শামীম হোসেন জানান, শুরু থেকেই বিভিন্ন দিন এই চালগুলো বন্দরে প্রবেশ করেছে। গত শনিবার (২৩ আগস্ট) ৯টি ট্রাকে ৩১৫ মেট্রিক টন চাল, রবিবার (২৪ আগস্ট) ৩টি ট্রাকে ১০৫ মেট্রিক টন, সোমবার (২৫ আগস্ট) দুটি চালানে ৬২০ মেট্রিক টন চাল ও আজ বৃহস্পতিবার সকালে ১২ ট্রাকের মাধ্যমে ৪২০ মেট্রিক টন চাল বন্দরে এসেছে। এই চার দিন মিলিয়ে এক সপ্তাহে মোট ১৪৬০ মেট্রিক টন চাল আমদানি সম্পন্ন হয়।
আমদানিকারকদের মতে, সরকারের এই উদ্যোগের ফলে দেশের বাজারে চালের দাম স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। তারা বিশ্বাস করে, এই আমদানির ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের দাম কমে আসবে। গনি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আব্দুস সামাদ বলেন, ‘গত শনিবার ৩১৫ মেট্রিক টন চাল বন্দরে প্রবেশ করে। রবিবার তিন ট্রাকে ১০৫ মেট্রিক টন, এসএমএম পার্কের মতো অন্যান্য দিনেও চাল আমদানি হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালেও ৬২০ মেট্রিক টন চাল বন্দরে পৌঁছেছে। ট্রাকগুলো বন্দরে প্রবেশের পর ভোঁইয়া এন্টারপ্রাইজ এবং কাবেরী এন্টারপ্রাইজের মতো সিএন্ডএফ ব্যবসায়ীরা এখান থেকে চাল ছাড়ানোর কাজ করছে।’
বন্দরটির সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট বাবলুর রহমান জানান, আমদানিকৃত চালের কাগজপত্র কাস্টমসে জমা দেওয়ার পর আজ বৃহস্পতিবার চালের খালাস প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এছাড়াও, বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান বলেছেন, দীর্ঘ চার মাস বন্ধ থাকার পর গত বৃহস্পতিবার থেকে ফের চাল আমদানির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ফলে বন্দরের কর্মচঞ্চলতা অনেকটাই ফিরেছে।
বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন আরও জানিয়েছেন, চাল দ্রুত খালাসের জন্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৫ এপ্রিলের পর এই প্রথম পুনরায় চাল আমদানির ঘোষণা এলো, যা দেশের পর্যাপ্ত চালের সরবরাহ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।