যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি পোশাকের বাজারে বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন ও অস্থিরতা দেখা
দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিতর্কিত ‘পাল্টা শুল্ক’ নীতির প্রভাবে চীনের
রপ্তানি বাণিজ্যে নজিরবিহীন ধস নামার সুযোগে বাংলাদেশ এখন দেশটিতে দ্বিতীয় শীর্ষ
পোশাক রপ্তানিকারক হিসেবে নিজের অবস্থান সুসংহত করেছে। ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব
কমার্সের আওতাধীন অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (অটেক্সা)-এর সাম্প্রতিক
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শীর্ষ রপ্তানিকারক হিসেবে ভিয়েতনাম তাদের আধিপত্য ধরে রাখলেও
চীন ও ভারতের তুলনায় বাংলাদেশ সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে।
অটেক্সার পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি–মার্চ) বাংলাদেশ
২০৪ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। যদিও এটি গত বছরের তুলনায় ৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ
কম, তবুও চীনের বাজার হারানোর মাত্রা ছিল অনেক বেশি ভয়াবহ। চীন এই সময়ে মাত্র ১৭০
কোটি ডলারের পোশাক পাঠাতে পেরেছে, যা গত বছরের একই সময়ের ৩৬১ কোটি ডলারের তুলনায়
প্রায় ৫৩ শতাংশ কম। অন্যদিকে, শীর্ষস্থানে থাকা ভিয়েতনাম ৩৯৮ কোটি ডলারের পোশাক
রপ্তানি করে পৌনে ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক
বাজারের ২২ শতাংশ ভিয়েতনামের দখলে থাকলেও সাড়ে ১১ শতাংশ হিস্যা নিয়ে বাংলাদেশ
দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে।
রপ্তানি হ্রাসের পেছনে মূল কারণ হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসনের বিতর্কিত শুল্কনীতিকে
দায়ী করা হচ্ছে। গত বছরের এপ্রিলে বিশ্বের ১৫৭টি দেশের পণ্যে বিভিন্ন হারে পাল্টা
শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুরুতে বাংলাদেশি পণ্যে ৩৭ শতাংশ শুল্কের
খড়্গ থাকলেও বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও পণ্য আমদানির প্রতিশ্রুতির প্রেক্ষিতে তা
বর্তমানে ২০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। তবে চীন ও ভারতের মতো দেশগুলোকে এর চেয়েও
অনেক উচ্চ হারে শুল্ক গুনতে হচ্ছে, যা বাংলাদেশের জন্য এক ধরনের পরোক্ষ সুযোগ তৈরি
করেছে। যদিও ভারতের রপ্তানি গত বছরের তুলনায় ২৭ শতাংশ কমে ১১০ কোটি ডলারে ঠেকেছে।
এদিকে, মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের পূর্ববর্তী পাল্টা শুল্ক নীতিকে অবৈধ ঘোষণা
করার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইন প্রয়োগ করে নতুন করে ১০ শতাংশ
অস্থায়ী শুল্ক আরোপ করেছেন, যা ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে। তবে সম্প্রতি
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালত কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে এই শুল্কের ওপর স্থগিতাদেশ
দিয়েছেন। অটেক্সার তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক
তৈরি পোশাক আমদানি ১১ দশমিক ৬০ শতাংশ কমে ১ হাজার ৭৭৩ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।
উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, পাল্টা শুল্কের কারণে শুরুতে বাংলাদেশ সুবিধাজনক অবস্থানে
থাকলেও বর্তমানে পরিস্থিতি বেশ চ্যালেঞ্জিং। অতিরিক্ত শুল্কের কারণে পণ্যের উৎপাদন
খরচ ও বিক্রয়মূল্য বেড়ে গেছে। অন্যদিকে ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি
তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে মার্কিন
ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে এবং নতুন ক্রয়াদেশ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে বলে
তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকেরা জানিয়েছেন।





