বিশ্ববাজারে অ্যালুমিনিয়ামের ক্রমবর্ধমান চাহিদার মাঝে ইন্দোনেশিয়া রপ্তানি
বাণিজ্যে এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছে। দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা ও ট্রেড
ডেটা মনিটরের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, গত মার্চ মাসে ইন্দোনেশিয়া মোট ৮৮
হাজার ৫৫৪ টন অ্যালুমিনিয়াম বিশ্ববাজারে সরবরাহ করেছে, যা গত ২৮ মাসের মধ্যে
সর্বোচ্চ। উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারি মাসে রপ্তানির পরিমাণ ছিল মাত্র ৩৩ হাজার ৪৯০ টন,
অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে রপ্তানি দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক
সংবাদমাধ্যম বিজনেস রেকর্ডার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
শিল্প বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইন্দোনেশিয়ার এই অভাবনীয় প্রবৃদ্ধি মূলত তাদের শিল্প
সক্ষমতা বৃদ্ধির দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ফসল। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ও
চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী অ্যালুমিনিয়াম সরবরাহে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে,
ইন্দোনেশিয়ার এই বাড়তি উৎপাদন তা মোকাবিলায় বড় ভূমিকা রাখছে। এই রপ্তানি বৃদ্ধি
আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা কমিয়ে স্থিতিশীলতা আনতে সহায়তা করবে বলে সংশ্লিষ্টরা
মনে করছেন।
এই রপ্তানি রেকর্ডের পেছনে হালমাহেরা দ্বীপের ওয়েদা বে অঞ্চলে স্থাপিত একটি নতুন
শোধনাগারের (স্মেল্টার) বিশাল অবদান রয়েছে। চীনের দুই শীর্ষ প্রতিষ্ঠান সিং শান
হোল্ডিং গ্রুপ ও সিনফা গ্রুপের যৌথ মালিকানাধীন এই কারখানাটি গত মার্চ থেকেই
বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন ও রপ্তানি শুরু করেছে। নতুন এই উৎসের সংযোজন ইন্দোনেশিয়ার
সামগ্রিক রপ্তানি চিত্র পাল্টে দিয়েছে।
অন্যদিকে, আঞ্চলিক বাজারের গণ্ডি পেরিয়ে সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে
অ্যালুমিনিয়ামের বড় চালান পাঠানোকে ইন্দোনেশিয়ার জন্য একটি কৌশলগত বিজয় হিসেবে
দেখছেন বিশ্লেষকরা। এতে একক অঞ্চলের ওপর দেশটির বাণিজ্যিক নির্ভরতা কমবে এবং জাতীয়
অর্থনীতি আরও সুসংহত হবে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে কাঁচামাল প্রক্রিয়াকরণ এবং
উচ্চমূল্যের পণ্য রপ্তানির যে ধারা ইন্দোনেশিয়া শুরু করেছে, তা ভবিষ্যতে আরও
ত্বরান্বিত হবে এবং বিশ্ব ধাতু শিল্পে দেশটিকে একটি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে
বলে আশা করা হচ্ছে।





