মঙ্গলবার, ১২ই মে, ২০২৬, ২৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩

লা লিগা শিরোপার সঙ্গে ১৩০০ কোটি টাকা পাচ্ছে বার্সেলোনা

ক্যাম্প ন্যু জুড়ে এখন উৎসবের আমেজ। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে লা

লিগার শিরোপা পুনরুদ্ধার করেছে বার্সেলোনা। এটি ক্লাবটির ২৯তম লিগ ট্রফি। কেবল

মাঠের লড়াইয়ে শ্রেষ্ঠত্বই নয়, এই শিরোপা জয়ের ফলে কাতালান ক্লাবটির কোষাগারে জমা

হতে যাচ্ছে বিশাল অঙ্কের অর্থ। টানা দ্বিতীয় এবং গত চার বছরের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো

স্প্যানিশ ফুটবলের এই শীর্ষ মুকুট নিজেদের করে নিল বার্সা। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের

বিপক্ষে জিতেই শিরোপা নিশ্চিত হওয়ায় সমর্থকদের আনন্দ এখন কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।

গতরাতে অনুষ্ঠিত এল ক্লাসিকোতে রিয়াল মাদ্রিদকে ২-০ গোল ব্যবধানে পরাজিত করে শিরোপা

নিশ্চিত করে বার্সেলোনা। ম্যাচের শুরু থেকেই দাপট ছিল বার্সার। মাত্র ৯ মিনিটের

মাথায় মার্কাস র‍্যাশফোর্ডের দুর্দান্ত গোলে লিড নেয় তারা। এরপর ১৭তম মিনিটে দানি

ওলমোর সহায়তায় দ্বিতীয় গোলটি করেন ফেরান তোরেস। এই দুই গোলের লিড ম্যাচের শেষ

পর্যন্ত ধরে রেখে লিগের শীর্ষস্থান সুসংহত করার পাশাপাশি শিরোপা উদযাপনের মঞ্চ

প্রস্তুত করে নেয় কাতালানরা।

ট্রফির পাশাপাশি বার্সেলোনা বড় অঙ্কের প্রাইজমানি পেতে যাচ্ছে মূলত লা লিগার

টেলিভিশন স্বত্ব থেকে। নিয়ম অনুযায়ী, চ্যাম্পিয়ন দলকে লিগের মোট উপার্জিত অর্থের

একটি নির্দিষ্ট বড় অংশ পুরস্কার হিসেবে প্রদান করা হয়। এর আগে ২০২২-২৩ মৌসুমে

শিরোপা জিতে বার্সা ৬ কোটি ১০ লাখ ইউরোর কিছু বেশি পেয়েছিল। তবে এবার টেলিভিশন

স্বত্বের বাজারদর আগের চেয়ে বাড়ায় বার্সেলোনা অন্তত ৬ কোটি থেকে ৯ কোটি ইউরো পেতে

পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৮৬৫ কোটি থেকে ১৩০০

কোটি টাকার মধ্যে।

এই বিশাল অঙ্কের অর্থ বার্সেলোনার বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং

গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় ভূমিকা রাখবে। ক্লাব সূত্রে জানা গেছে,

পুরস্কারের এই অর্থ প্রধানত তাদের ঐতিহাসিক স্টেডিয়াম ক্যাম্প ন্যুর সংস্কার ও

নবনির্মাণ কাজে ব্যয় করা হবে। এছাড়া চলতি মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে

ওঠা এবং স্প্যানিশ সুপার কাপ জয়ের ফলে পাওয়া আলাদা প্রাইজমানিও ক্লাবের তহবিলে জমা

হবে। তবে লা লিগা শিরোপার এই প্রাইজমানিই হতে যাচ্ছে ক্লাবটির জন্য এ বছরের সবচেয়ে

বড় আর্থিক প্রাপ্তি।

শিরোপা জয়ের এই মুহূর্তটি দলের কোচ হান্সি ফ্লিকের জন্য ছিল একই সঙ্গে আনন্দ ও

বিষাদের। ব্যক্তিগত শোক কাটিয়ে দলকে এই উচ্চতায় নিয়ে আসায় ফুটবল মহলে তিনি বেশ

প্রশংসিত হচ্ছেন। বার্সেলোনা সমর্থকদের জন্য এই ২৯তম শিরোপা কেবল একটি ট্রফি নয়,

বরং অর্থনৈতিক ও কাঠামোগত পরিবর্তনের মুখে থাকা ক্লাবটির ঘুরে দাঁড়ানোর একটি

শক্তিশালী বার্তা। বিশাল অঙ্কের এই অর্থ পুরস্কার এবং মাঠের এই সাফল্য—উভয়ই

কাতালানদের আগামীর পথে বড় ধরনের অনুপ্রেরণা জোগাবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন