মঙ্গলবার, ১২ই মে, ২০২৬, ২৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩

১০০ টাকার বেশি বিল নিলে ঠিকাদারি লাইসেন্স বাতিল: ডিএসসিসি প্রশাসক

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকার বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহের

ক্ষেত্রে নির্ধারিত ১০০ টাকার অতিরিক্ত বিল আদায় এবং নিয়মিত ময়লা পরিষ্কার না করলে

সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলের কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। আজ

সোমবার রাজধানীর নগর ভবনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় ডিএসসিসি প্রশাসক বীর

মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বর্জ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর (পিসিএসপি)

উদ্দেশ্যে এই বার্তা প্রদান করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, নাগরিকদের ভোগান্তি লাঘব

এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না।

প্রশাসক তাঁর বক্তব্যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বর্তমানে বিদ্যমান বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে

ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযোগ আসছে যে অনেক প্রতিষ্ঠান

নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি টাকা আদায় করছে এবং প্রতিদিন ময়লা সংগ্রহ করছে না। এ

বিষয়ে কড়া নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি ফ্ল্যাট বা বাসাবাড়ি থেকে মাসিক

সর্বোচ্চ ১০০ টাকা বিল নিতে হবে এবং তা অবশ্যই নির্ধারিত রশিদের মাধ্যমে সংগ্রহ

করতে হবে। যদি কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রমাণ পাওয়া যায়,

তবে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই তাদের প্রশাসনিক ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে এবং লাইসেন্স

বাতিল করা হবে।

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিশেষ প্রস্তুতির বিষয়েও সভায়

গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রশাসক নির্দেশ দিয়েছেন যে, কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণের

স্বার্থে ঈদের তিন দিন কোনো পরিচ্ছন্নতা কর্মী বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ছুটিতে থাকতে

পারবেন না। প্রতিটি ওয়ার্ড বর্জ্যমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত কর্মীদের মাঠে উপস্থিত থেকে

দায়িত্ব পালন করতে হবে। পিসিএসপি ঠিকাদারদের সরাসরি মাঠে উপস্থিত থেকে কাজ তদারকি

করার পাশাপাশি পর্যাপ্ত ভ্যান ও জনবল নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। ‘দিনের বর্জ্য দিনেই’

অপসারণ নিশ্চিত করাকে এই সভার অন্যতম প্রধান সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পরিবেশগত দিকের ওপর জোর দিয়ে জানানো হয়েছে যে, কোনোভাবেই

রাস্তা বা খালে ময়লা ফেলা যাবে না। যদি কোনো বাসা থেকে নির্ধারিত স্থানে ময়লা না

রেখে যত্রতত্র ফেলা হয়, তবে সংশ্লিষ্ট বাড়ির বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে

আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের পোশাকের পরিচ্ছন্নতা এবং

নাগরিকদের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ বজায় রাখার জন্যও সভায় আহ্বান জানানো হয়।

প্রশাসক স্মরণ করিয়ে দেন যে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেবল একটি ব্যবসায়িক সেবা নয়, এটি

একটি মানবিক ও সামাজিক দায়িত্ব। চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করলে ডিএসসিসি আইন অনুযায়ী কঠোর

ব্যবস্থা গ্রহণে কোনো দ্বিধা করবে না বলেও তিনি সর্তক করেন।

পরিশেষে সভায় জানানো হয় যে, একটি পরিচ্ছন্ন ও উন্নত নগরী গড়তে ডিএসসিসি সব সময়

বদ্ধপরিকর। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে নিয়মিত নজরদারি চালানো হবে এবং

জনস্বার্থে এই কার্যক্রম আরও গতিশীল করা হবে। সভায় ডিএসসিসির ঊর্ধ্বতন

কর্মকর্তাবৃন্দ এবং প্রাথমিক বর্জ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রতিনিধিরা

উপস্থিত থেকে প্রশাসকের এই সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন।

পোস্টটি শেয়ার করুন