বিনোদনপ্রেমী দর্শকদের জন্য এক নতুন ডিজিটাল দিগন্তের সূচনা করে যাত্রা শুরু করতে
যাচ্ছে দেশীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘উৎসব’। ‘স্ট্রিম দ্য সেলিব্রেশন’ স্লোগানকে সামনে
রেখে আগামী ২১ মে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্ল্যাটফর্মটির শুভ উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। মূলত
মানসম্মত বাংলা কনটেন্ট তথা সিনেমা, অরিজিনাল সিরিজ এবং ওয়েব ফিল্মকে প্রাধান্য
দিয়ে বিশ্ববাজারে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করাই এই নতুন উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।
ডিজিটাল যুগে বাংলা সংস্কৃতি ও বিনোদনকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার এক উচ্চাভিলাষী
লক্ষ্য নিয়ে প্ল্যাটফর্মটি বাজারে আসছে।
‘উৎসব’-এর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তিপ্রাপ্ত নতুন
বাণিজ্যিক ও ভিন্নধর্মী সিনেমাগুলোকে থিয়েটার-পরবর্তী সময়ে সবচেয়ে আগে দর্শকদের
সামনে নিয়ে আসবে। শুধু বর্তমান সময়ের নতুন সিনেমাই নয়, বরং নতুন ও পুরনো মিলিয়ে
শতাধিক কালজয়ী চলচ্চিত্র এবং এক্সক্লুসিভ সব কনটেন্ট নিয়ে ওটিটির দুনিয়ায় পা রাখছে
এই প্ল্যাটফর্মটি। এর ফলে দর্শকরা তাঁদের স্মার্টফোন বা ল্যাপটপে বসেই বিশাল এক
চলচ্চিত্রের ভাণ্ডার খুঁজে পাবেন, যা বাংলা সিনেমার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যকে বহন করবে।
প্ল্যাটফর্মটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জাহিদ হাসান অভি উৎসব নিয়ে তাঁর
সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলা কনটেন্টকে আরও
সহজ ও আকর্ষণীয় উপায়ে দেশ-বিদেশের দর্শকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই তাঁদের মূল
লক্ষ্য। তিনি এমন একটি বিশ্বমানের ডিজিটাল মাধ্যম গড়ে তুলতে চান যেখানে পৃথিবীর
যেকোনো প্রান্ত থেকে বাংলাভাষী মানুষ তাঁদের পছন্দের বিনোদনমূলক ভিডিও বা চলচ্চিত্র
অনায়াসেই উপভোগ করতে পারবেন। এই প্ল্যাটফর্মটি মূলত নির্মাতাদের জন্যও তাঁদের
সৃজনশীল কাজ প্রদর্শনের একটি বড় সুযোগ তৈরি করে দেবে।
বর্তমানে দেশে সিনেমা হলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ায় প্রান্তিক পর্যায়ের
দর্শকরা প্রায়শই নতুন চলচ্চিত্র দেখা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। জাহিদ হাসান অভি মনে
করেন, জেলা শহরগুলোতে সিনেমা হলের এই সংকট দূর করতে ‘উৎসব’ একটি কার্যকর ডিজিটাল
সমাধান হিসেবে কাজ করবে। একই সাথে প্রবাসীদের জন্য নতুন বাংলা সিনেমা সময়মতো দেখার
সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার মাধ্যমে এটি একটি সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন হিসেবেও ভূমিকা
রাখবে। প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা দূর করে প্রান্তিক পর্যায়ে মানসম্মত বিনোদন পৌঁছে
দেওয়াই হবে প্ল্যাটফর্মটির অন্যতম বড় সার্থকতা।
আধুনিক প্রযুক্তি এবং উন্নত গ্রাহক অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে ‘উৎসব’
বাংলাদেশের ডিজিটাল এন্টারটেইনমেন্ট খাতে এক নতুন প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করবে
বলে আশা করা হচ্ছে। ২১ মে উদ্বোধনের পর থেকেই দর্শকরা অ্যাপ এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে
এই সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। রুচিশীল নির্মাণের সাথে দর্শকদের নিয়মিত সংযোগ ঘটিয়ে
প্ল্যাটফর্মটি খুব দ্রুতই জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছাবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা
আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। সব মিলিয়ে ‘উৎসব’ হবে বাংলা সিনেমার নতুন একটি আশ্রয়স্থল।





