তীব্র দাবদাহে ভারতের বিশাল একটি অংশ বর্তমানে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির মুখোমুখি।
উত্তর, মধ্য ও পূর্ব ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় তাপমাত্রা ৪৫ থেকে ৪৮ ডিগ্রি
সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করায় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ
করছে উত্তর প্রদেশে, যেখানে আবহাওয়া দপ্তর রাজ্যের অন্তত ১০টি জেলায় ‘লাল সতর্কতা’
জারি করেছে। ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তরের মতে, প্রশান্ত মহাসাগরে ‘এল নিনো’ পরিস্থিতি
এবং দীর্ঘমেয়াদী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এ বছর গরমের তীব্রতা নজিরবিহীন পর্যায়ে
পৌঁছেছে। বিশেষ করে বান্দা জেলায় তাপমাত্রা ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে,
যা রাজ্যের ইতিহাসে অন্যতম সর্বোচ্চ।
লখনউ আবহাওয়া কেন্দ্রের তথ্যানুযায়ী, বান্দা ছাড়াও চিত্রকূট, প্রয়াগরাজ, কৌশাম্বী,
বারাণসী এবং জৌনপুরের মতো জেলাগুলোতে ‘অতি তীব্র তাপপ্রবাহ’ বয়ে যাচ্ছে। এছাড়া আরও
৩৪টি জেলায় ‘কমলা সতর্কতা’ এবং ১৭টি জেলায় ‘হলুদ সতর্কতা’ জারি রয়েছে। লাল সতর্কতার
অর্থ হলো পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি হতে
পারে। আবহাওয়া দপ্তর স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত এই তাপপ্রবাহ
অব্যাহত থাকতে পারে এবং বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা না থাকায় তাপমাত্রা আরও ২ থেকে ৩
ডিগ্রি বাড়ার শঙ্কা রয়েছে। গরমের পাশাপাশি রাতেও তাপমাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেশি
থাকায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বহুগুণ বেড়ে গেছে।
দাবদাহের প্রভাব পড়েছে রাজস্থান ও দিল্লিতেও। শ্রীগঙ্গানগরে তাপমাত্রা ৪৬.৫ ডিগ্রি
ছাড়িয়েছে এবং গরমে অতিষ্ঠ হয়ে দিল্লির সঞ্জয় লেকের মাছ মরে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
পাহাড়ী এলাকা যেমন দেরাদুন বা হৃষিকেশেও তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যাওয়ায়
পর্যটকরা বিপাকে পড়েছেন। চিকিৎসকরা হিটস্ট্রোক ও পানিশূন্যতা এড়াতে দুপুর ১২টা থেকে
বিকাল ৪টা পর্যন্ত ঘরের বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। প্রবল গরমে বিভিন্ন
স্কুলে শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তির খবরও পাওয়া গেছে। বিশেষ করে
রিকশাচালক ও নির্মাণ শ্রমিকদের মতো শ্রমজীবী মানুষ জীবনঝুঁকির মধ্যে কাজ করছেন।
বিশেষজ্ঞরা এই চরম পরিস্থিতির জন্য ‘নগর তাপদ্বীপ প্রভাব’ বা কংক্রিটের বনাঞ্চলকে
দায়ী করছেন, যা দিনের তাপ রাতেও বিকিরণ করতে পারছে না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন
স্থানে অস্থায়ী শীতল কেন্দ্র ও পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায়
অপ্রতুল। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, আসন্ন বর্ষা মৌসুমেও
বৃষ্টিপাতের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে কম হতে পারে, যা আগামী দিনগুলোতে জলসংকট ও
তাপপ্রবাহকে আরও দীর্ঘস্থায়ী করে তুলতে পারে।





