গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোয় (ডিআরসি) ইবোলা ভাইরাসের নতুন প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ
আকার ধারণ করেছে। শুক্রবার (২২ মে) পর্যন্ত দেশটিতে ১৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা
গেছে। সহায়তা সংস্থা ও স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছেন, পরিস্থিতি দ্রুত খারাপের দিকে
যাচ্ছে। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জরুরি সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন।
দেশটির দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থা এই সংকট সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে বলে জানিয়েছেন
বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, যত সংখ্যক আক্রান্ত ও মৃত্যুর খবর এখন পাওয়া যাচ্ছে,
বাস্তবে সংখ্যাটা এর চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে।
বেসরকারি সংস্থা মার্সি কোরের ডিআরসি কান্ট্রি ডিরেক্টর রোজ টচওয়েনকো বলেন, এবার
ইবোলা যেভাবে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে তা অত্যন্ত উদ্বেগের। এটি আরও বড় আকারে ছড়িয়ে পড়ার
ঝুঁকি খুবই বেশি। তাই আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে আরও জোরালো সহায়তা
প্রয়োজন।
১৭ মে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) দেশটিতে ইবোলার ১৭তম প্রাদুর্ভাবের
ঘোষণা দেয়। ইবোলায় মৃত্যুর হার সাধারণত ২৫ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) পর্যন্ত দেশটিতে প্রায় ৭৫০টি সন্দেহভাজন সংক্রমণ এবং ১৭৭টি
সন্দেহভাজন মৃত্যুর খবর নথিভুক্ত হয়েছে।
প্রথম মৃত্যুটি ঘটে গত ২৪ এপ্রিল। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ইতুরি প্রদেশের রাজধানী
বুনিয়ায় এক ব্যক্তি ইবোলায় মারা যান। তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া হয় কাছাকাছি শহর
মংবালুতে। শোকাহত অনেকেই মরদেহ স্পর্শ করায় সেখান থেকেই ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
এরপর হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে রোগীর সংখ্যা হঠাৎ করে বেড়ে যায়।
এদিকে বুনিয়ার কাছে রুয়ামপারা এলাকায় একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে আগুন ধরিয়ে দেয় স্থানীয়
বিক্ষুব্ধ জনতা। ইবোলায় মৃত এক ব্যক্তির মরদেহ হস্তান্তর নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে
স্বজনদের বিরোধ থেকে এ ঘটনা ঘটে।
কর্তৃপক্ষ সাধারণত সংক্রামক মৃতদেহের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া নিজস্ব নিয়মে করে। কিন্তু
অনেক পরিবার এতে রাজি হয় না। কঙ্গোয় ঐতিহ্যগতভাবে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সময় মরদেহ
স্পর্শ করার রীতি রয়েছে, যা আগের প্রাদুর্ভাবগুলোতেও রোগ ছড়ানোর অন্যতম কারণ হয়ে
দাঁড়িয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আন্তর্জাতিক সহায়তা আরও জোরদার করার তাগিদ দিচ্ছেন
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।





