আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে একাধিক বড় পরিবর্তনের
ঘোষণা দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। গত রবিবার আহমেদাবাদে
অনুষ্ঠিত আইসিসি বোর্ড সভায় ক্রিকেট কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এই ঐতিহাসিক
সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনটি এসেছে টেস্ট ক্রিকেটে,
যেখানে আলোর স্বল্পতার কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ার চিরচেনা সমস্যার সমাধানে এখন
থেকে লাল বলের পরিবর্তে ফ্লাডলাইটের নিচে গোলাপি বল ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
তবে এই নিয়ম কার্যকর করার জন্য ম্যাচ শুরুর আগেই উভয় দলের সম্মতির প্রয়োজন হবে। এর
আগে গোলাপি বলের ব্যবহার কেবল দিবা-রাত্রির টেস্টে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন থেকে এটি
নিয়মিত টেস্টের গতি সচল রাখতে ব্যবহৃত হবে।
সীমিত ওভারের ক্রিকেটেও আনা হয়েছে বিশেষ আধুনিকায়ন। এখন থেকে ওয়ানডে এবং
টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে নির্ধারিত ড্রিংকস বিরতির সময় দলের প্রধান কোচ অথবা
মনোনীত স্টাফরা সরাসরি মাঠে প্রবেশ করে খেলোয়াড়দের কৌশলগত পরামর্শ দিতে পারবেন। আগে
কেবল দ্বাদশ ব্যক্তি পানি নিয়ে মাঠে যাওয়ার সময় কোনো বিশেষ বার্তা পৌঁছে দিতে
পারতেন, কিন্তু নতুন নিয়মে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোর ‘স্ট্র্যাটেজিক টাইমআউট’-এর মতো
সরাসরি কোচিংয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে। আইসিসি মনে করছে, এই পরিবর্তনের ফলে আন্তর্জাতিক
ক্রিকেটে দলীয় রণকৌশলের প্রয়োগ আরও নিখুঁত ও আধুনিক হবে।
টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সময় ব্যবস্থাপনায় কঠোর হওয়ার লক্ষে ইনিংসের
মধ্যবর্তী বিরতি সময় নির্দিষ্ট করে দিয়েছে আইসিসি। এখন থেকে দুই ইনিংসের মাঝে ঠিক
১৫ মিনিট বিরতি থাকবে এবং এই সময় পার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যাটারদের ক্রিজে
প্রস্তুত থাকতে হবে। এর পাশাপাশি, ব্যাটাররা যখন শট খেলার সময় ক্রিজে পজিশন
পরিবর্তন করেন, তখন আম্পায়ারদের নিখুঁতভাবে ওয়াইড ডাকার সুবিধার্থে গত কয়েক বছর ধরে
চলা পরীক্ষামূলক গাইডলাইনগুলোকে স্থায়ী রূপ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে মাঠের আম্পায়ারদের
জন্য পরিবর্তিত পরিস্থিতির নিরিখে বোলারদের ছাড় দেওয়ার বিষয়টি আরও স্পষ্ট ও সহজ
হবে।
প্রযুক্তির ব্যবহারে আরও এক ধাপ এগিয়ে বোলিং অ্যাকশন নিয়ে বিতর্ক নিরসনে নতুন
পদ্ধতি যুক্ত করেছে সংস্থাটি। কোনো বোলারের বোলিং ভঙ্গি সন্দেহজনক মনে হলে মাঠের
আম্পায়ার বা ম্যাচ অফিশিয়ালদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুবিধার্থে এখন থেকে হক-আই
প্রযুক্তির সংগৃহীত তথ্য বা ডেটা সরবরাহ করা হবে। এর ফলে মাঠের আম্পায়াররা কোনো
বোলারকে ‘রিপোর্টেড’ করার ক্ষেত্রে আরও তথ্যনির্ভর ও নির্ভুল সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম
হবেন। সামগ্রিকভাবে এই পরিবর্তনগুলো ক্রিকেটকে আরও সময়োপযোগী ও দর্শকপ্রিয় করে
তুলবে বলে আইসিসি বোর্ড সভায় আশা প্রকাশ করা হয়েছে।





