বুধবার, ৩রা জুন, ২০২৬, ২০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ৬ দফা কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরলেন ড. খলিলুর রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর

বিশ্বমঞ্চে নিজের প্রথম বক্তব্য প্রদান করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড.

খলিলুর রহমান। গতকাল মঙ্গলবার জাতিসংঘে দেওয়া এই ভাষণে তিনি বৈশ্বিক শান্তি রক্ষা,

টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতা আরও

শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ছয়টি স্তম্ভভিত্তিক একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা

করেন। তাকে এই পদে সমর্থন প্রদানের জন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা

প্রকাশ করে তিনি জানান, এই বড় দায়িত্ব তিনি অত্যন্ত বিনয় ও শ্রদ্ধার সাথে গ্রহণ

করছেন।

বক্তব্যের শুরুতে ড. খলিলুর রহমান তাকে এই সম্মানজনক পদের জন্য মনোনীত করায়

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। এছাড়া

নির্বাচনের সময় তাকে সহযোগিতাকারী দেশবাসী ও বৈশ্বিক শুভানুধ্যায়ীদেরও স্মরণ করেন

তিনি। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আন্দ্রেয়াস কাকৌরিসের গঠনমূলক প্রচারণার প্রশংসা

করে তিনি একে ভবিষ্যৎ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জন্য একটি অনুকরণীয় উদাহরণ হিসেবে অভিহিত

করেন। ড. রহমান তার ভাষণে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন যে,

জাতিসংঘ যখন তার নবম দশকে প্রবেশের অপেক্ষায়, তখন সংস্থাটির ওপর মানুষের আস্থা এক

কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি। যুদ্ধ, মানবিক সংকট এবং উন্নয়নের ধারা ব্যাহত হওয়ার

পাশাপাশি মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতার যে পশ্চাদপসরণ ঘটছে, তা নিরসনে তিনি সব

সদস্য রাষ্ট্রের সাথে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।

শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় নিজের অগ্রাধিকারসমূহ বর্ণনা করতে গিয়ে বাংলাদেশের

নবনির্বাচিত সভাপতি দেশের শান্তিরক্ষীদের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা ও অভিজ্ঞতার কথা

উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সাইপ্রাস থেকে সুদান পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি

শান্তিরক্ষীরা যে অবদান রেখেছেন, তা থেকে তিনি অনুপ্রেরণা গ্রহণ করবেন। তার মেয়াদে

সংঘাত প্রতিরোধ, রাজনৈতিক সমাধান খোঁজা এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষাকে বিশেষ

গুরুত্ব দিয়ে একটি সমন্বিত শান্তিরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার পক্ষে তিনি কাজ করবেন।

পাশাপাশি শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নারী সদস্যদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপরও তিনি জোর

দেন।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) প্রসঙ্গে ড. খলিলুর রহমান আক্ষেপ প্রকাশ করে

বলেন যে, ২০৩০ এজেন্ডা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি ও বর্তমান অর্জনের মধ্যে এখনও বিশাল

ব্যবধান রয়ে গেছে। তিনি ২০২৭ সালের এসডিজি সম্মেলনকে সামনে রেখে পিছিয়ে থাকা

লক্ষ্যমাত্রাগুলো অর্জনে নিরলসভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এছাড়া এসডিজি

অর্থায়নের বড় ঘাটতি পূরণ, আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কার, ঋণের স্থায়িত্ব

নিশ্চিত করা এবং নারী ও কন্যাশিশুদের ক্ষমতায়নের বিষয়ে তিনি কাজ করার প্রতিশ্রুতি

দেন। বিশেষ করে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য গৃহীত দোহা কর্মসূচি এবং অন্যান্য

আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অঙ্গীকার বাস্তবায়নে তার বিশেষ নজর থাকবে বলে তিনি সদস্য

রাষ্ট্রগুলোকে আশ্বস্ত করেন।

পোস্টটি শেয়ার করুন