রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬, ২৪শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

সীমান্তে থামছে না পুশইন, রুখে দিচ্ছে বিজিবি

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) পুশইনের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। শনিবারও (৬

জুন) দেশের কয়েকটি সীমান্ত দিয়ে পুশইনের চেষ্টা চালায় তারা। তবে বর্ডার গার্ড

বাংলাদেশের (বিজিবি) কঠোর অবস্থানের মুখে কয়েকটি সীমান্ত এলাকা দিয়ে পুশইনের চেষ্টা

করা ১০০ জনকে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে তারা। একইসঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারাও বিজিবির

সঙ্গে যোগ দিয়ে রুখে দিচ্ছে এমন অপতৎপরতা। খবর দৈনিক বাংলার প্রতিনিধিদের।

ঠাকুরগাঁও: মশালগাঁও সীমান্ত দিয়েও ১১ জনকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা চালায় বিএসএফ। খবর

পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিহত করে বিজিবির সদস্যরা। পরে পতাকা বৈঠকে বিষয়টি

অস্বীকার ও সীমান্তে শূন্য রেখায় অবস্থান করা ১১ জনকে ফেরত নিতে অস্বীকার করে

বিএসএফ।

এ বিষয়ে দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের (৪২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ

আল মঈন হাসান জানান, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইন প্রতিরোধে তারা

সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।

দিনাজপুর: হিলির ঘাসুড়িয়া সীমান্ত দিয়েও চলে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা। ৫ জনকে ভোরে

এপারে ঠেলে দিতে গেলে, তা রুখে দেয় বিজিবি। অনুপ্রবেশ ও পুশইন ঠেকাতে বাড়ানো হয়েছে

নজরদারি।

লালমনিরহাট: জেরার ৪টি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে ৩৩ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টাও

ব্যর্থ হয়েছে। বিজিবির কঠোর অবস্থান ও সার্বক্ষণিক নজরদারির মুখে ভারতের অভ্যন্তরে

ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে বিএসএফ।

এ বিষয়ে ১৫ বিজিবির মিডিয়া সেল জানিয়েছে, সীমান্তে পুশইনের জন্য আনা সব ব্যক্তিকে

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিয়েছে।

নওগাঁ: সাপাহার সীমান্ত দিয়ে ১৭ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। তবে

টানা ১৯ ঘণ্টার চেষ্টার পর রাতেই ওই ব্যক্তিদের আবারও ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেওয়া

হয়।

পঞ্চগড়: সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ি প্রধান পাড়া সীমান্ত এলাকায়

ভারতীয় সীমান্তের শূন্য রেখায় দীর্ঘ ৩৫ ঘণ্টা ধরে অবস্থান করছেন পুশইন হওয়া ১০ জন।

তাদের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি বিজিবি-বিএসএফ।

এ বিষয়ে নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম

বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগে অধিনায়ক পর্যায়ে বিজিবি-বিএসএফ পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হয়েছে। আমরা

এ ঘটনায় কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছি।’

শেরপুর: নালিতাবাড়ী সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইনের

(অবৈধ অনুপ্রবেশ) চেষ্টা নস্যাৎ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও

স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষকে সতর্ক ও সচেতন থাকতে

সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে বিশেষ মাইকিং করেছে বিজিবি। ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন ৩৯

বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ নুরুল আমিন বায়েজিদ এ তথ্য নিশ্চিত

করেছেন।

বিজিবি সূত্র জানায়, ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন ৩৯ বিজিবির অধীনস্থ নালিতাবাড়ী উপজেলার

রামচন্দ্রকুড়া বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার ১১১৮-এর নিকটবর্তী

চেরাংপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে আনুমানিক ৪০০ গজ ভারতের

অভ্যন্তরে ২২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের বাবুরামবিল ক্যাম্পের আওতাধীন এলাকায় ৫-৬ জন

লোককে ভারতের মেঘালয় থেকে ধরে এনে বাংলাদেশে পুশইনের জন্য জড়ো করে রেখেছিল বিএসএফ।

কাঁটাতারবিহীন সীমান্ত এলাকা দিয়ে গত শুক্রবার জুম্মার নামাজের সময় সুযোগ বোঝে

তাদের বাংলাদেশে পুশইন করার পরিকল্পনা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিজিবি এবং

স্থানীয় সীমান্তবাসীর সম্মিলিত ও তাৎক্ষণিক প্রচেষ্টায় এই অপপ্রয়াস সফলভাবে

প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।

এই ঘটনার পর ৩৯ বিজিবির অধীনস্থ সকল বিওপিতে (বর্ডার আউটপোস্ট) তাৎক্ষণিকভাবে জনবল

বৃদ্ধি করা হয়েছে। পুশইনের সম্ভাব্য ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে ২৪ ঘণ্টা ডিউটি

নিশ্চিত করার পাশাপাশি টহল দলগুলোর সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক অবস্থায় রাখা হয়েছে।

সীমান্ত এলাকার গ্রামবাসীদের নিয়ে সচেতনতামূলক জরুরি সভা করা হচ্ছে এবং মাইকিংয়ের

মাধ্যমে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় কোনো দালাল এই

চক্রের সাথে জড়িত আছে কি না, সোর্স নিয়োগের মাধ্যমে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করে

গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলমান রয়েছে।

ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন ৩৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ নুরুল আমিন

বায়েজীদ জানান, ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলার আন্তর্জাতিক সীমানা রক্ষায় এবং যেকোনো

প্রকার অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা সদা জাগ্রত থেকে দায়িত্ব পালন

করে যাচ্ছে বিজিবি। সীমান্তে মাদকপাচার, চোরাচালানি মালামাল রোধ এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ

বা পুশইন রোধকল্পে বিজিবি জিরো টলারেন্স বা কঠোরতা নীতি অনুসরণ করছে।

মেহেরপুর: গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়ীয়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর

(বিএসএফ) পুশইন চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয়

গ্রামবাসী। ফলে প্রায় ১৬ ঘণ্টা ধরে কোনো দেশেই আশ্রয় না পেয়ে রোদে পুড়ে বৃষ্টির

পানিতে ভিজে অনাহারে ভারতীয় ভূখণ্ডে ঝোঁপের মধ্যে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন ভারত থেকে

জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়া ৬ জন।

স্থানীয় ও বিজিবি সূত্রে জানা যায়, তেঁতুলবাড়ীয়া গ্রামের হাটপাড়াসংলগ্ন সীমান্তের

মেন পিলার ১০৪-এর সাব পিলার ৫-এর কাছ দিয়ে বিএসএফ ওই ৬ জনকে বাংলাদেশে পুশইন করার

চেষ্টা করে।

এ সময় বিজিবি ও গ্রামবাসী প্রতিরোধ গড়ে তুললে তারা ভারতের সীমান্তের দিকে ফিরে যেতে

বাধ্য হয়।

তবে বিএসএফ তাদের পুনরায় গ্রহণ না করায় ওই ৬ জন বর্তমানে ভারতীয় ভূখণ্ডের

কাঁটাতারের বেড়ার কাছে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। আটকে পড়া এই দলে ৩ জন পুরুষ, ২ জন

নারী এবং ১ শিশু রয়েছে।

ভুক্তভোগীরা নিজেদের বাংলাদেশি নাগরিক বলে দাবি করেছেন। তাদের ভাষ্যমতে, ২০২০ সালে

তারা ভারতে যাওয়ার পর সেখানে কারাভোগ করেন। পরে গত শুক্রবার বিএসএফ তাদের আটক করে

সীমান্তের কাছে নিয়ে এসে জোর করে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেয়।

এ ঘটনার জেরে গতকাল শনিবার দুপুরে বিজিবি ও বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে

একটি পতাকা বৈঠক হয়। বৈঠকে ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেন কোম্পানি কমান্ডার এসআই

রাজেন্দ্র কুমার পোয়ালে এবং বাংলাদেশের পক্ষে ছিলেন কোম্পানি কমান্ডার এসআই ওসিকুর

রহমান।

বৈঠক হলেও কোনো দেশই তাদের নিতে রাজি হয়নি। ফলে বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে মাত্র ৫০ গজ

দূরে ভারতীয় কাঁটাতারের কাছে চরম অসহায় অবস্থায় দিন পার করছেন।

তবে স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, এই সকল মানুষ দাবি করছে তারা বাংলাদেশের

বাসিন্দা। তারপরও অনাহারে রোদে পুড়ে বৃষ্টির পানিতে ভিজে কষ্ট করছে। হ্যাঁ এটা ঠিক

আমরা তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করতে বাধা দিয়েছি।

এ ছাড়া শুক্রবার রাতে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে খুমি সম্প্রদায়ের ৪৭

জন। খবর পেয়ে বান্দরবানের রেমাক্রি হৈকু খুমি পাড়া থেকে তাদের হেফাজতে নেয় বিজিবি।

এরপর তাদের পুশব্যাক করানো হয়।’

পোস্টটি শেয়ার করুন