রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬, ২৪শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

বিশ্ব খাদ্যবাজারে চাপ বাড়াচ্ছে গম ও চিনির মূল্যবৃদ্ধি

আন্তর্জাতিক বাজারে সদ্য সমাপ্ত মে মাসে খাদ্যপণ্যের দাম সামগ্রিকভাবে সামান্য

হ্রাস পেয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) মাসিক প্রতিবেদন অনুযায়ী,

ভোজ্যতেলের বাজার কিছুটা নিম্নমুখী হওয়ায় খাদ্যশস্য ও চিনির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব

কিছুটা প্রশমিত হয়েছে। মে মাসে বিশ্ব খাদ্যমূল্য সূচক ছিল গড়ে ১৩০.৮ পয়েন্ট, যা

এপ্রিলের সংশোধিত সূচকের তুলনায় ০.২ শতাংশ কম। তবে এই সামান্য পতন সত্ত্বেও বৈশ্বিক

খাদ্যের দাম এখনো গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরের কাছাকাছি অবস্থান করছে এবং গত

বছরের মে মাসের তুলনায় বর্তমান সূচক ২.৯ শতাংশ বেশি। খবর আনাদোলু এজেন্সি ও

রয়টার্স।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে খাদ্যশস্যের দাম এপ্রিলের তুলনায় ২.৬ শতাংশ

বেড়েছে। বিশেষ করে গমের দাম টানা চতুর্থ মাসের মতো বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মে মাসে এর

হার ছিল ৩.৪ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রধান রফতানিকারক দেশগুলোতে প্রতিকূল আবহাওয়ার

কারণে উৎপাদন হ্রাসের আশঙ্কা এবং জ্বালানি ও সারের উচ্চমূল্য এই দাম বৃদ্ধিতে

প্রধান ভূমিকা রেখেছে। এশিয়ার শীর্ষ রফতানিকারক দেশগুলোতে আবহাওয়া নিয়ে উদ্বেগ এবং

পরিবহন খরচ বাড়ায় চালের দামও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। একই সাথে বৈশ্বিক সরবরাহের ঘাটতি ও

জোরালো চাহিদার কারণে ভুট্টার দামও বৃদ্ধি পেয়েছে।

অন্যদিকে, মে মাসে চিনির বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে। আন্তর্জাতিক

বাজারে চিনির দামের সূচক এক লাফে ৭.৫ শতাংশ বেড়েছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে বিশ্বের

শীর্ষ চিনি উৎপাদনকারী দেশ ব্রাজিলের পূর্বাভাসকে দায়ী করা হচ্ছে। সেখানে আখের একটি

বড় অংশ চিনি তৈরির পরিবর্তে ইথানল বা জৈব জ্বালানি উৎপাদনে ব্যবহারের ঘোষণা আসায়

ভবিষ্যতে সরবরাহে বড় ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর বিপরীতে মে মাসে ভোজ্যতেলের

দামের সূচক ৪.৬ শতাংশ কমেছে, যা চলতি বছরে ভোজ্যতেলের প্রথম দরপতন। মূলত পাম ও

সয়াবিন তেলের আন্তর্জাতিক বাজার দুর্বল হওয়ার কারণে এই নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা

দিলেও সরিষা ও সূর্যমুখী তেলের দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে পারস্য উপসাগরের হরমুজ

প্রণালির সংকটের কারণে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ভোজ্যতেলের গড় দাম এখনো গত বছরের

চেয়ে ২০ শতাংশেরও বেশি উপরে রয়েছে।

অন্যান্য পণ্যের মধ্যে মাংসের দাম সামান্য বাড়লেও দুগ্ধজাত পণ্যের বাজার কিছুটা

স্থিতিশীল রয়েছে। এফএও কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, বিশ্ব খাদ্যবাজার বর্তমানে

আবহাওয়া ও জ্বালানি খরচের ওপর অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ

নৌ-পরিবহন রুটগুলোতে চলমান উত্তেজনার ফলে সারের প্রাপ্যতা কমে গেলে আগামীতে খাদ্যের

দাম আরও বাড়তে পারে। সংস্থাটি পূর্বাভাস দিয়েছে যে, ২০২৬-২৭ মৌসুমে বিশ্বব্যাপী

খাদ্যশস্য উৎপাদন ২ শতাংশ কমে ২৯৮ কোটি টনে নেমে আসতে পারে, যা আগের মৌসুমের রেকর্ড

উৎপাদনের তুলনায় কম। এই সম্ভাব্য উৎপাদন হ্রাসের ফলে গমের বাজার সবচেয়ে বেশি

ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছে এফএও।

পোস্টটি শেয়ার করুন