লর্ডসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে নাটকীয় জয়ের পর যখন ইংল্যান্ড শিবিরের
ফুরফুরে মেজাজে থাকার কথা, ঠিক তখনই নতুন এক বিতর্কে জড়িয়েছেন দলটির অধিনায়ক বেন
স্টোকস ও পেসার গাস অ্যাটকিনসন। সোমবার ভোরে লন্ডনের একটি নাইটক্লাবে এক
অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় জড়িত হওয়ার অভিযোগে এই দুই ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক
তদন্ত শুরু করেছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। বোর্ডের পক্ষ
থেকে জানানো হয়েছে যে, টিম প্রোটোকল বা দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ভঙ্গের প্রাথমিক
অভিযোগ পাওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক
সংস্থাকে ইতোমধ্যে পুরো বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে এবং ইসিবি জানিয়েছে যে তারা এই
ঘটনার বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনে কাজ করছে।
সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাইটক্লাবে অবস্থানকালে লন্ডনের
সারাসেন্স একাডেমি রাগবি ইউনিয়নের এক খেলোয়াড়ের সঙ্গে স্টোকস ও অ্যাটকিনসনের এক
অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কেবল ইসিবি নয়, বরং
সংশ্লিষ্ট রাগবি ক্লাব ‘প্রেম রাগবি’-ও তাদের পক্ষ থেকে নিজস্ব তদন্ত শুরু করেছে।
ঠিক কী কারণে বা কীভাবে এই ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল তা এখনও জনসমক্ষে বিস্তারিত
প্রকাশ করা হয়নি। সারাসেন্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ঘটনার প্রকৃত সত্য জানতে
সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়দের সাথে কথা বলছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
ইংলিশ ক্রিকেটারদের জন্য নাইটক্লাব বা আচরণবিধি ভঙ্গের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে বেশ
নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে নিউজিল্যান্ড সফরের সময়
ওয়েলিংটনের একটি নাইটক্লাবে মধ্যরাতে গিয়ে হাতাহাতিতে জড়িয়েছিলেন হ্যারি ব্রুক। সে
সময় ব্রুক দাবি করেছিলেন যে তিনি একাই ছিলেন, তবে তদন্তে বেরিয়ে আসে তাঁর সঙ্গে
সতীর্থ জ্যাকব বেথেল ও জশ টাং-ও উপস্থিত ছিলেন। ওই ঘটনায় ব্রুককে ৩০ হাজার পাউন্ড
জরিমানা করার পাশাপাশি অন্যদের সতর্ক করেছিল ইসিবি। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ায় অ্যাশেজ
চলাকালীন কুইন্সল্যান্ডের নুসা সমুদ্র সৈকতে ক্রিকেটারদের মদ্যপান সংক্রান্ত
বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ইসিবিকে আন্তর্জাতিক মহলে বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলেছিল।
বেন স্টোকসের ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারেও এ ধরনের ঘটনার তিক্ত অতীত রয়েছে। ২০১৭ সালের
সেপ্টেম্বরে ব্রিস্টলের একটি নাইটক্লাবের বাইরে মারামারির ঘটনায় তিনি গ্রেপ্তার
হয়েছিলেন এবং দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল তাঁকে। যদিও পরবর্তীতে
তিনি আদালত কর্তৃক নির্দোষ প্রমাণিত হন, তবে জাতীয় দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পাওয়ার
পর পুনরায় এমন বিতর্কে জড়ানো দলের শৃঙ্খলার ওপর বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বারবার এমন
অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে গত শ্রীলঙ্কা সিরিজ থেকে ক্রিকেটারদের জন্য রাতে
বাইরে বের হওয়ার ওপর ‘কারফিউ’ জারি করেছিল টিম ম্যানেজমেন্ট, যা বর্তমান সিরিজেও
কার্যকর ছিল। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠের লড়াইয়ে আধিপত্য দেখালেও মাঠের বাইরের এই
বিতর্ক এখন ইংলিশ ক্রিকেট বোর্ডকে নতুন করে চিন্তায় ফেলেছে।





