ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে রাস্তা খনন করে পুকুর তৈরী করে টিনের
বেড়া দিয়ে রাস্তা আটকে দেওয়ায় চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যসহ
কয়েকটি পরিবারের লোকজন। এ ঘটনার প্রতিকার পেতে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো উপজেলা
নির্বাহী অফিসারসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ ও স্থানীয় সুত্রে জানাগেছে, ১৫ বছর আগে ৪ ফুট রাস্তাসহ কাজী ইমান আলী ও তাঁর
ভাই কাজী হোসেন আলী গংদের কাছ থেকে সেনা ও পুলিশ সদস্যসহ ৯ জন মিলে ৪০ শতক জমি
কিনেন। পরবর্তীতে তারা বসতবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন। ১৫ বছর ধরে সাধারণ
জনগনসহ স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা এ রাস্তা ব্যবহার করে যাতায়াত করছেন।
সম্প্রতি কাজী ইমান আলী ও তাঁর ভাই হোসেন আলীর পারিবারিক দ্বন্দ্বে চলাচলের রাস্তা
কেটে পুকুর তৈরী করে টিন দিয়ে বেড়া দিয়েছেন। এতে সেনা ও পুলিশ সদস্যসহ ৯টি পরিবারের
সদস্যদের চলাচল চরমভাবে ব্যহত হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, চলাচলের রাস্তা ঘেঁষেই পুকুর খনন করে টিন দিয়ে বেড়া দেওয়া
হয়েছে। পুকুরে কোন পাড় ও প্যালাসাইডিং না থাকায় রাস্তা ভেঙ্গে পুকুরে বিলীন হয়ে
যাচ্ছে।
অভিভাবকেরা তাদের বাচ্চাদের হাত ধরে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। রাস্তা ক্রমাগত ভেঙ্গে
যাওয়ায় পাশে থাকা চারতলা বিশিষ্ট একটি ভবনও অনেকটাই ঝুঁকিতে রয়েছে। আরেকটু সামনে
গেলে দেখা যায় চলাচলের পুরা রাস্তায় কেটে ফেলা হয়েছে। সেইখানে পচা পানি দিয়ে এক
হাতে জুতা নিয়ে চলতে হচ্ছে তাঁদের।
ভুক্তভোগীরা জানান,আমরা ৯ সদস্য মিলে রাস্তাসহ ৪০ শতক জমি ক্রয় করে বাসাবাড়ি করেছি।
যা আমাদের দলিলেও উল্লেখ আছে। এ রাস্তা আমরাসহ অন্যান্যরাও ব্যবহার করে শান্তিপূর্ন
ভাবে চলাচল করে আসছি। হঠাৎ তাদের দুই ভাইয়ের দ্বন্দ্বে কাজী হোসেন আলী রাস্তা কেটে
পুকুর বানিয়েছেন। কতক জায়গায় পুরো রাস্তায় কেটে ফেলেছেন। এখন আমরা তাদের ভাইদের
দ্বন্দ্বের শিকার হয়েছি।
তামান্না আক্তার বলেন, আমাদের জমি কেনার সময় দাতা নিজ দক্ষিণ পাশে রাস্তা দিয়েছেন।
দুই ভাইয়ের পারিবারিক কলহে এখন আমাদের রাস্তা বন্ধ করে দিছেন। আমরা এখন কোন কাজ
করতে পারতেছিনা। আর যারা বাসা করেছে তারাও চলাচল করতে পারতেছেনা। তাদের ভাইয়ে
-ভাইয়ে সমস্যায় আমাদের সাজা ভোগ করতে হচ্ছে। আমরা তাদের দ্বন্দ্বের নিরসন ও রাস্তা
চাই।
লীমা আক্তার বলেন, জীবনের সব শেষ করে জমি কিনে এখানে বাসা করেছি। তাঁদের পারিবারিক
দ্বন্দ্বে আমাদের বাসার সাথে রাস্তা কেটে পুকুর বানিয়েছেন। এখন বাসা থেকে বের হতে
পারি না , গেইটে প্রায় সবসময়ই তালা দিয়ে রাখতে হয়। মাঝখানে আমার বাচ্চা পা ফসকে
পুকুরে পড়ে যায়। আল্লাহ জানে আবার কখন কোন বাচ্চা পানিতে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়।
আমরা চাই তারা দ্রুত আমাদের রাস্তার সমাধান করে দিক। আমরা আর বন্ধি থাকতে চাই না।
মোশারফ হোসেন বলেন, এটি আগে থেকেই চলাচলের রাস্তা ছিল। দুই ভাইয়ের দ্বন্দ্বে
বিল্ডিং ভেঙ্গে পুকুর খনন করেছে। এতেই আমাদের চলাচলের রাস্তা ধ্বসে গেছে। আমার
বিল্ডিংটিও এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। আমার ছোট্ট চারটি বাচ্চা আছে তারাও স্কুলে যেতে
পারছেনা। আমরা খুব আতংকে আছি কখন জানি কোন বাচ্চা ঐ গর্তে পড়ে মারা যায়। প্রশাসনের
দৃষ্টি আকর্ষন করে ভোগান্তি থেকে পরিত্রানের দাবি জানান তিনি।
এ নিয়ে অভিযুক্ত কাজী হোসেন আলীর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন ,আমার ভাই জোর করে শুধু
আমার জমি দিয়েই রাস্তা নিতে চায় তাই রাস্তা আটকে দিয়েছি। এ জমি ছাড়াও আরো সমস্যা
আছে। মিলেঝিলে পরে রাস্তা নিতে হবে এর আগে কোন রাস্তা হবে না।
কাজী ইমান আলী বলেন, আমিসহ আমরা ৪ ভাই রাস্তা দিয়েই তাদের কাছে জমি বিক্রি করেছি।
আর ওই রাস্তাটি নতুন রাস্তা নয় এটি বহু বছরেরই পুরনো রাস্তা।
আমার সাথে ছোট ভাই হোসেন আলীর অন্য জমি নিয়ে বিরোধ থাকায় খামাখা সে ওই পরিবারগুলোর
রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে তাদেরকে ভোগান্তিতে ফেলেছেন।
ফুলবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শহীদুল ইসলাম সোহাগ দৈনিক বাংলা কে
বলেন, এ বিষয়ে পৌর প্রশাসককে সরেজমিনে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।





