ইরানের ওপর নজরদারি এবং হরমুজ প্রণালির নৌ-অবরোধ ভাঙার তৎপরতার মাঝেই একটি মার্কিন
সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস মঙ্গলবার
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত সূত্রের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে এবং পরে মার্কিন
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও বিষয়টি স্বীকার করেছেন। হেলিকপ্টারটি ইরানের
প্রভাবাধীন হরমুজ প্রণালির অত্যন্ত কাছে থাকাকালীন এই পরিস্থিতির শিকার হয়। তবে
অ্যাপাচি হেলিকপ্টারটি সরাসরি ইরানি বাহিনীর হামলায় ভূপাতিত হয়েছে নাকি কোনো
যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে, সে সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো
সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। এ প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান যে, ঘটনাটির
কারণ নিয়ে পরবর্তীতে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করা হবে।
নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “হেলিকপ্টারে থাকা দুই
পাইলট অক্ষত ও সুরক্ষিত আছেন। কেউ আহত হননি।” দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন থেকে
আরও জানা গেছে যে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের দীর্ঘদিনের নৌ-অবরোধ অকার্যকর করতে
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নিয়মিতভাবে অ্যাপাচি হেলিকপ্টার, যুদ্ধবিমান
এবং ড্রোন ব্যবহার করে আসছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে
প্রকাশ্য সংঘাত শুরু হওয়ার পর এই প্রথম কোনো মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত
হওয়ার ঘটনা ঘটল। যদিও এর আগে তেহরান প্রায় ৩০টি মার্কিন এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন
ভূপাতিত করার দাবি জানিয়েছিল।
জেরুজালেম পোস্ট এবং দ্য নিউইয়র্ক টাইমস উল্লেখ করেছে যে, অ্যাপাচি হেলিকপ্টারগুলো
সচরাচর টহল দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হলেও সম্প্রতি সেন্টকমের পক্ষ থেকে আক্রমণাত্মক
মনোভাব প্রদর্শনের অংশ হিসেবে এগুলোকে ইরানের সীমানার অভ্যন্তরেও পাঠানো হচ্ছিল। গত
রবিবারও মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালিতে হুমকি হিসেবে চিহ্নিত ইরানের দুটি ড্রোন
ভূপাতিত করেছিল। মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ দৃঢ়ভাবে জানিয়েছে যে, আন্তর্জাতিক নৌপথে
ইরানি আগ্রাসন মোকাবিলায় তারা সর্বদা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার রাখতে তৎপর রয়েছে।





