রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬, ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

বিশেষ সম্মাননায় সিক্ত কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদী

অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বাংলা গানকে আপন কণ্ঠমাধুর্য ও শিল্পনিষ্ঠা দিয়ে সমৃদ্ধ

করা কালজয়ী সংগীতশিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদীকে বিশেষ সম্মাননা জানিয়েছে বাংলাদেশ

শিল্পকলা একাডেমি। জাতীয় সংস্কৃতির বিকাশ ও লালনে অসামান্য অবদান রাখা এই গুণী

শিল্পীকে যথাযথ মূল্যায়ন ও সম্মান প্রদর্শনের লক্ষ্যে শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর

জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের

প্রথমাংশে এই কিংবদন্তির জীবন, কর্ম ও অবদানের ওপর নির্মিত একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন

করা হয় এবং পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

সম্মাননা প্রদানের মূল পর্বে মঞ্চে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি

বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এমপি এবং তথ্য ও

সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক

মাননীয় উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ডাঃ জাহেদ উর রহমান। এছাড়া সম্মানিত

অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) এর

আহ্বায়ক হেলাল খান। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত সচিব কানিজ মওলার

সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির

মহাপরিচালক ও কবি শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন একাডেমির সচিব

মোহাম্মদ জাকির হোসেন।

আলোচনা পর্বে স্বাগত বক্তব্যে শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ

বাংলা সংগীতে সৈয়দ আব্দুল হাদীর অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, বাংলা গানের

মানদণ্ড ও উচ্চতা এখন তাঁর কণ্ঠস্বরকে ঘিরে মূল্যায়িত হয়। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম সংস্কৃতি অঙ্গনকে নতুন করে ঢেলে

সাজানোর প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। সম্মাননা প্রাপ্তির পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে

গিয়ে কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদী সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং

সবাইকে অন্তর থেকে দেশকে ভালোবাসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমরা যেন নিজেদের ব্যক্তিগত

প্রত্যাশার ভারে দেশটাকে ভারাক্রান্ত না করে ফেলি।

সন্ধ্যা ৭টায় অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ছিল সৈয়দ আব্দুল হাদীকে শ্রদ্ধা নিবেদন করে

আয়োজিত বিশেষ ‘গীতসন্ধ্যা’। এই পর্বে স্মৃতিচারণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের একঝাঁক

প্রতিভাবান শিল্পী তাঁর বিখ্যাত গানগুলো পরিবেশন করেন। একক ও দ্বৈত কণ্ঠে সংগীত

পরিবেশনায় অংশ নেন আবদুল্লাহহেল রাফি তালুকদার, স্মরণ, নোলক বাবু, অনন্যা আচার্য,

পিয়াল হাসান, নুজহাত সাবিহা পুষ্পিতা, অপু আমান, সোহানুর রহমান, স্বরলিপি, রাশেদ,

রাকা পপি, আজিজুল বারি (সিপু), মুহাম্মদ আনিসুর রহমান ও আতিক। সবশেষে শিল্পীর

কালজয়ী দুটি গান ‘আছেন আমার মোক্তার’ এবং ‘সূর্যোদয়ে তুমি, সূর্যাস্তেও তুমি’ সমবেত

কণ্ঠে গাওয়ার মাধ্যমে এই সুপরিকল্পিত আয়োজনের সফল সমাপ্তি ঘটে।

পোস্টটি শেয়ার করুন