চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নজিরবিহীন ভ্রমণ জটিলতার মধ্য দিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার সোফি
স্টেডিয়ামে নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল ইরান। মেক্সিকো সীমান্ত থেকে বাসে করে
এসে লস অ্যাঞ্জেলেসে ম্যাচ খেলে আবার রাতেই ফিরে যাওয়ার মতো অমানবিক নিয়মের মাঝেও
লড়াকু ফুটবল উপহার দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুবার
পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলের রোমাঞ্চকর ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছে তারা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইরানের
বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ছিল চরম অনিশ্চয়তায়। নিরাপত্তাজনিত কারণে ফিফা ইরানের ম্যাচগুলো
মেক্সিকোয় সরিয়ে নেওয়ার আবেদন প্রত্যাখ্যান করলেও দলটি টুর্নামেন্টে টিকে থাকার
সিদ্ধান্ত নেয়। বর্তমানে তারা মেক্সিকোর তিজুয়ানায় অনুশীলন ঘাঁটি গেড়েছে এবং
প্রতিটি ম্যাচের মাত্র একদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাচ্ছে। এই বৈরী
পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে অধিনায়ক মেহদি তারেমি বলেছিলেন, তারা কোনো স্বাভাবিক
উৎসবমুখর আমেজ অনুভব করতে পারছেন না।
মাঠের লড়াইয়েও শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় ইরান। ম্যাচের মাত্র সপ্তম মিনিটে
নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক ক্রিস উডের পাস থেকে এলিজাহ জাস্ট চমৎকার এক ভলিতে কিউইদের
এগিয়ে দেন। গোল খেয়ে জেগে ওঠে ইরান এবং ৩২তম মিনিটে রেজাইয়ানের এক শৈল্পিক চিপ শটে
সমতায় ফেরে। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই অর্থাৎ ৫৪ মিনিটে আবারও ক্রিস উডের সহায়তায়
নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে নিউজিল্যান্ডকে লিড এনে দেন এলিজাহ জাস্ট। এবারও ইরানের
সমতায় ফিরতে সময় লেগেছে মাত্র ১২ মিনিট; রেজাইয়ানের লম্বা পাস থেকে নিখুঁত এক হেডে
গোল করে ম্যাচ ২-২ করেন মোহেবি।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ইরানের চেয়ে ৬৫ ধাপ পিছিয়ে থাকা নিউজিল্যান্ড এই ম্যাচে জয়ের খুব
কাছে গেলেও অভিজ্ঞতার অভাবে পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয়েছে। ২০১০ সালের পর বিশ্বকাপে
ফেরা কিউইদের জন্য এই ড্রও বড় এক অর্জন। ম্যাচ শেষে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে
হৃদ্যতাপূর্ণ আচরণ ও জার্সি বদলের দৃশ্য দর্শকদের নজর কেড়েছে। রাজনৈতিক চাপের মুখে
ডাগআউটে গম্ভীর মুখে বসে থাকা ইরানি কোচ আমির ঘালেনোয়ি এবং মাঠে হাজার হাজার
প্রবাসী সমর্থকদের উদ্দেশ্যে পতাকা হাতে খেলোয়াড়দের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ—সব মিলিয়ে
ইরানের এই ড্র ফুটবলের চেয়েও যেন বড় এক লড়াইয়ের প্রতীক হয়ে থাকল।





