শনিবার, ২০শে জুন, ২০২৬, ৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা স্থগিত, যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে সম্পাদিত চুক্তির পরবর্তী ধাপ

নিয়ে আলোচনার জন্য নির্ধারিত সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত করেছেন মার্কিন ভাইস

প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। শুক্রবার দেশটির রিসোর্ট এলাকা বুর্গেনস্টকে মার্কিন ও

ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা

বাতিল করা হয়েছে। ফলে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে এক ধরনের

অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পূর্বনির্ধারিত এই আলোচনাটি আপাতত

হচ্ছে না। তবে কী কারণে বৈঠকটি বাতিল হলো, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য তারা

প্রকাশ করেনি। অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের একজন মুখপাত্র বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এক

বিবৃতিতে জানান, এই আলোচনার ‘লজিস্টিক’ বা ব্যবস্থাপনাগত বিষয়গুলো আগে থেকে চূড়ান্ত

ছিল না। তিনি বলেন, “এ আলোচনার সার্বিক প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা কখনোই সহজ বা আগে

থেকে অনুমান করার মতো ছিল না। বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী ভাইস প্রেসিডেন্ট আজ রাতে

রওনা হচ্ছেন না।” মুখপাত্র আরও যোগ করেন, “আমরা যত দ্রুত সম্ভব কারিগরি আলোচনা শুরু

করার জন্য উন্মুখ হয়ে আছি।”

এর আগে বুধবার রাতে এক আকস্মিক ঘটনার মধ্য দিয়ে দুই দেশের প্রেসিডেন্ট ভার্চ্যুয়ালি

একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্রান্স

থেকে এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান তেহরান থেকে এই ‘ঐতিহাসিক’ চুক্তিতে

সই করেন। যদিও আজ জেনেভায় একটি আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের কথা ছিল, তবে ইরানের

পার্লামেন্ট স্পিকার বাঘের গালিবাফ জানিয়ে দেন যে ওই অনুষ্ঠানটি আর হচ্ছে না।

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র অন্তর্বর্তী

চুক্তিটি বাস্তবায়ন শুরু করছে কি না, ইরানি আলোচকরা তা আগে নিশ্চিত হতে চান।

চুক্তির আওতায় ৬০ দিনের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে ইরানের

পারমাণবিক কর্মসূচি ও জব্দ করা অর্থ ছাড় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। এই সময়সীমা নিয়ে

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরান যত দিন “ঠিকঠাক আচরণ”

করবে, তত দিন তিনি এই সময়সীমা নিয়ে ভাববেন না। তবে চুক্তির একটি প্রধান

শর্ত—লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ হওয়া—এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। ইসরায়েল তাদের আক্রমণ

অব্যাহত রাখায় তেহরান সতর্ক করে বলেছে, এটি সমঝোতার লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।

তেহরানের ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সেসের অধ্যাপক মোস্তাফা কোসচেশম

আল-জাজিরাকে বলেন, “লেবাননে যদি ইসরায়েল হামলা চালিয়ে যায়, তবে ইরান চুক্তি থেকে

সরে যেতে পারে। ইসরায়েলকে সামলে রাখার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের ওপরই পড়ে।” গত ২৮

ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত অন্তত ৭ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং

বিশ্ব অর্থনীতিতে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। তবে চুক্তির পর ইতিবাচক কিছু সংকেতও

মিলেছে; হরমুজ প্রণালি দিয়ে কিছু বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে এবং বিশ্ববাজারে

তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭৯ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে আলোচনার

স্থবিরতা কাটানো এখন বিশ্ব শান্তির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন