, ,

ইতিহাসের সফলতম বায়োপিক পপসম্রাটের ‘মাইকেল’

বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে যুক্ত হলো এক নতুন সোনালী অধ্যায়। পপসম্রাট মাইকেল

জ্যাকসনের জীবনের গল্প নিয়ে নির্মিত বহুল আলোচিত চলচ্চিত্র ‘মাইকেল’ বক্স অফিসে

সর্বকালের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়ে ইতিহাসের সফলতম বায়োপিক বা জীবনীমূলক চলচ্চিত্রের

গৌরব অর্জন করেছে। ক্রিস্টোফার নোলানের বিখ্যাত চলচ্চিত্র ‘ওপেনহাইমার’কে টপকে এই

নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছে লায়ন্সগেটের এই বিগ বাজেট প্রজেক্টটি।

এতদিন পর্যন্ত এই তালিকার শীর্ষস্থানটি ছিল পরমাণু বোমার জনক মার্কিন বিজ্ঞানী

রবার্ট ওপেনহাইমারের জীবনী নিয়ে তৈরি ‘ওপেনহাইমার’ সিনেমার দখলে। ২০২৩ সালে মুক্তি

পাওয়া ক্রিস্টোফার নোলানের সেই মাস্টারপিসটি বিশ্বজুড়ে প্রায় ৯৭৫ মিলিয়ন মার্কিন

ডলার আয় করে ইতিহাসের সফলতম বায়োপিকের স্বীকৃতি পেয়েছিল। তবে মুক্তির প্রায় তিন

বছরের মাথায় এসে ওপেনহাইমারের সেই বিশাল কীর্তিকে পেছনে ফেলে নতুন মাইলফলক স্পর্শ

করল ‘মাইকেল’। পপসম্রাটের জীবনের গল্প নিয়ে তৈরি এই সিনেমাটি বক্স অফিসে ইতিমধ্যেই

৯৭৭ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৯৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার) আয় করে ফেলেছে এবং খুব দ্রুত গতিতে ১

বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ডলারের অভিজাত ক্লাবের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

এর আগে চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে ব্রিটিশ রক ব্যান্ড কুইনের প্রয়াত কিংবদন্তি গায়ক

ফ্রেডি মার্কারির বায়োপিক ‘বোহেমিয়ান র‍্যাপসোডি’কে টপকে ইতিহাসের সর্বকালের

সবচেয়ে সফল মিউজিক্যাল বায়োপিকের স্বীকৃতি পেয়েছিল ‘মাইকেল’। ২০১৮ সালে মুক্তি

পাওয়া ‘বোহেমিয়ান র‍্যাপসোডি’ বিশ্বব্যাপী ৯০৪ মিলিয়ন ডলার আয় করে দীর্ঘদিন ধরে এক

নম্বরে ছিল। তবে পপসম্রাটের রাজকীয় ম্যাজিকের সামনে শেষ পর্যন্ত সেই রেকর্ডও টিকতে

পারেনি।

বিখ্যাত নির্মাতা অ্যান্টোইন ফুকুয়া পরিচালিত এই সিনেমায় মাইকেল জ্যাকসনের

কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তাঁরই আপন ভাতিজা জাফর

জ্যাকসন। পর্দায় জাফরের নিখুঁত নাচ, মাইকেলের সিগনেচার স্টাইলের হাঁটার শৈলী,

কণ্ঠের অবিশ্বাস্য জাদু এবং মাইকেলের অবিকল রূপান্তর দর্শকদের আবেগপ্রবণ করার

পাশাপাশি চলচ্চিত্র সমালোচকদের কাছ থেকেও ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

‘মাইকেল’ বায়োপিকে কেবল পপসম্রাটের আকাশছোঁয়া সাফল্যগাথা ও মঞ্চ কাঁপানো

পারফরম্যান্সই নয়, বরং অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে তুলে আনা হয়েছে তাঁর ব্যক্তিজীবনের

গভীর অন্ধকার, বিতর্ক ও তীব্র নিঃসঙ্গতার আখ্যানও। সব ধরনের মানসিক ও সামাজিক বাধা

পেরিয়ে নিজের ভেতরের অনন্য আলো দিয়ে কীভাবে তিনি গোটা বিশ্বকে দশকের পর দশক মাতিয়ে

রেখেছিলেন, সিনেমায় তা নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে দর্শকদের হলমুখী

করার মূল কারণ।

পোস্টটি শেয়ার করুন