, ,

বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ল ‘সুপারগার্ল’

গত ২৬ জুন বিশ্বব্যাপী অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে মুক্তি পেয়েছিল ডিসি কমিকসের নতুন

সুপারহিরো চলচ্চিত্র ‘সুপারগার্ল’ (সুপারগার্ল: ওম্যান অব টুমরো)। জেমস গান ও পিটার

সাফরানের নতুন ডিসিইউ মহাবিশ্বের দ্বিতীয় সিনেমা হিসেবে মুক্তির আগে ছবিটিকে ঘিরে

দর্শকদের প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বী। তবে মুক্তির পর বক্স অফিসে এবং সমালোচকদের

দরবারে চরমভাবে হতাশ করেছে এই ছবি। ভ্যারাইটিসহ আন্তর্জাতিক বিনোদন মাধ্যমগুলোর

অধিকাংশ রিভিউতে সিনেমাটির কড়া সমালোচনা করা হয়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট

ফুটে উঠেছে এর বক্স অফিস কালেকশনে।

ছবির নামভূমিকায় অভিনয় করা মিলি অ্যালককের (হাউস অব দ্য ড্রাগন খ্যাত) স্ক্রিন

প্রেজেন্স ও সাবলীল অভিনয় সর্বমহলে প্রশংসা পেলেও, ছবিটির মূল দুর্বলতা ছিল এর

দুর্বল চিত্রনাট্য ও অগোছালো পরিচালনা। ক্রেইগ গিলেস্পি পরিচালিত এই সিনেমাটির

প্রতি নেতিবাচক রিভিউয়ের কারণে দর্শক থিয়েটারমুখী হতে অনীহা দেখিয়েছেন। ফলে বক্স

অফিসে অত্যন্ত শোচনীয় ও হতাশাজনক সূচনা হয়েছে সিনেমাটির।

আন্তর্জাতিক বক্স অফিস ট্র্যাকিং সংস্থা স্যাকনিল্ক ও বক্স অফিস প্রোর সর্বশেষ

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মুক্তির প্রথম তিন দিনে (উইকএন্ড) বিশ্বব্যাপী ‘সুপারগার্ল’

সিনেমার মোট আয় দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার (৬৮ মিলিয়ন ডলার)। এর

মধ্যে উত্তর আমেরিকার অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে এসেছে ৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার এবং

আন্তর্জাতিক বা ওভারসিজ বাজার থেকে সিনেমাটি সংগ্রহ করেছে মাত্র ৩ কোটি ডলার।

প্রথম উইকএন্ডের এই চরম বিপর্যয় প্রযোজনা সংস্থা ওয়ার্নার ব্রাদার্স ও ডিসি

স্টুডিওজের কপালে চিন্তার বড় ভাঁজ ফেলে দিয়েছে। সিনেমাটি নির্মাণ করতে কেবল উৎপাদন

বাজেটই ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৭ কোটি মার্কিন ডলার, যার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে আরও বিপুল

অঙ্কের বিপণন বা মার্কেটিং খরচ। চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহ

থেকে লাভজনক হতে হলে বিশ্বব্যাপী অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ কোটি ডলার আয় করতে হতো, যা

বর্তমান ট্রেন্ড অনুযায়ী প্রায় অসম্ভব। ফলে এই প্রজেক্ট থেকে স্টুডিওর প্রায় ১০

থেকে ১২ কোটি ডলারের বড় লোকসান হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে গত বছর মুক্তি

পাওয়া ডিসিইউ-এর প্রথম সিনেমা ‘সুপারম্যান’ বিশ্বব্যাপী ৬১ কোটি ৮০ লাখ ডলার আয় করে

সফল হয়েছিল, তবে ‘সুপারগার্ল’ যে তার ধারেকাছেও যেতে পারছে না, তা এখন নিশ্চিত।

ডিসিইউ-এর এই বিপর্যয়ের মূল কারণ হিসেবে প্রেক্ষাগৃহে ডিজনির অ্যানিমেটেড মুভি ‘টয়

স্টোরি ৫’-এর অপ্রতিরোধ্য দাপটকে দায়ী করা হচ্ছে। পিক্সারের এই ব্লকবাস্টার

ফ্র্যাঞ্চাইজির নতুন ছবিটি তার মুক্তির দ্বিতীয় উইকএন্ডেও বক্স অফিসে রীতিমতো

রাজত্ব করছে, যেখানে এটি কেবল এই সপ্তাহান্তেই ৮ কোটি ৯১ লাখ ডলার তুলে নিয়েছে।

মুক্তির মাত্র ১২ দিনে ‘টয় স্টোরি ৫’-এর মোট বৈশ্বিক সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৫৮ কোটি ৫০

লাখ ডলার। চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞদের ধারণা, খুব শীঘ্রই এটি তার পূর্বসূরি ‘টয় স্টোরি

৪’-এর ১০৭ কোটি ডলারের রেকর্ড ভেঙে এই ফ্র্যাঞ্চাইজির ইতিহাসের সর্বোচ্চ আয়ের নতুন

রেকর্ড গড়বে। অন্যদিকে, আগামী দিনগুলোতে থিয়েটারে ‘মিনিনয়ন্স অ্যান্ড মনস্টার্স’

এবং ‘মোয়ানা’-র মতো বড় ছবি মুক্তি পাওয়ার কথা থাকায় ‘সুপারগার্ল’-এর ঘুরে দাঁড়ানোর

পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেল।

পোস্টটি শেয়ার করুন