ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ফুটবল বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি ও
পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইউরোপের উদীয়মান শক্তি
নরওয়ে। তবে এই হাইভোল্টেজ মহালড়াইয়ের আগে মনস্তাত্ত্বিক চাপ এড়াতে ব্রাজিলকেই
পরিষ্কার ফেভারিট মানছেন নরওয়ের পোস্টার বয় ও তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড।
আগামী ৬ জুলাইয়ের নকআউট ম্যাচে সেলেসাওদের ছিটকে দেওয়া নিয়ে এই মুহূর্তে খুব একটা
বড় মুখ করে কথা বলতে বা আশাবাদী হতে রাজি নন তিনি।
অথচ দুই দলের ফুটবল ইতিহাস ও পরিসংখ্যান কিন্তু পুরোপুরি কথা বলছে
স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশ নরওয়ের পক্ষেই। অতীতে দুই দলের মোট চারবারের আন্তর্জাতিক
দেখায় পরাক্রমশালী ব্রাজিল কখনোই নরওয়েকে হারাতে পারেনি। তবে অতীতের সেই
অপ্রতিরোধ্য ধারা এবারও বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে বজায় থাকবে কি না, সে বিষয়ে একদমই
আত্মবিশ্বাসী নন হালান্ড। বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডের (রাউন্ড অব ৩২) ম্যাচে আইভরি
কোস্টকে ২-১ ব্যবধানে বিদায় করে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করার পর আন্তর্জাতিক
ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ব্রাজিলের বিপক্ষে
নরওয়ের জেতার সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে ম্যানচেস্টার সিটির এই বিধ্বংসী
স্ট্রাইকার খুব সংক্ষিপ্ত ও সোজাসুজি উত্তর দেন— ‘সম্ভাবনা খুবই কম।’
এর আগে শেষ ষোলোর মঞ্চে সেলেসাওদের প্রতিপক্ষ হিসেবে পাওয়ার পর নিজের প্রাথমিক
প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে হালান্ড বলেছিলেন, ‘শেষ ষোলোতে আমাদের ব্রাজিলের বিপক্ষে
খেলতে হবে, এটাই ফুটবলীয় বাস্তবতা।’
আইভরি কোস্টকে হারিয়ে শেষ ষোলোর ঐতিহাসিক টিকিট নিশ্চিত করার পর টেক্সাসের ডালাস
স্টেডিয়ামে এক অভূতপূর্ব ও জাদুকরী উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন নরওয়ের ফুটবল সমর্থকরা।
ম্যাচ শেষ হওয়ার পর মাঠের ভেতর খেলোয়াড়রাও গ্যালারির দর্শকদের সাথে একাত্ম হয়ে
নিজেদের বিশ্ববিখ্যাত ও ঐতিহ্যবাহী ‘ভাইকিং রোয়িং’ উদ্যাপনে মেতে ওঠেন। মাঠে সবাই
গোল হয়ে বসে দলের অধিনায়ক ও আর্সেনাল মিডফিল্ডার মার্টিন ওডেগার্ডের ড্রামের তালের
সাথে তাল মিলিয়ে বৈঠা বাইবার প্রতীকী ভঙ্গিতে এই অবিস্মরণীয় জয় উদ্যাপন করেন।
দীর্ঘ ২৮ বছর পর দেশের ফুটবলে এমন মহোৎসব ও নিজ দেশের মানুষের এই বাঁধভাঙা
উচ্ছ্বাসের কথা তুলে ধরে হালান্ড বলেন, ‘নরওয়ের সাধারণ মানুষ এখন ফুটবল নিয়ে দারুণ
উচ্ছ্বসিত। জাতীয় দলকে ঘিরে বর্তমানে পুরো দেশের মানুষের মাঝে এই যে অভূতপূর্ব ঐক্য
তৈরি হয়েছে, তা মাঠের ভেতর আমাদের পারফরম্যান্সেও প্রচণ্ড ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।’
তবে জাতীয় দলের এই জোয়ারের মাঝেও সামনে যে এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষা অপেক্ষা করছে,
সতীর্থদের সেটিও শক্তভাবে মনে করিয়ে দিয়েছেন এই গোলমেশিন। তিনি বলছিলেন, ‘আমরা
এখন বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর মঞ্চে দাঁড়িয়ে আছি। টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে এসে প্রতিটি
দলই চরম শক্তিশালী এবং এখান থেকে সামনে এগিয়ে যাওয়া মোটেও সহজ হবে না। ব্রাজিলের
বিপক্ষে আমরা শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারব কি না, সেটাও আমি নিশ্চিত জানি না। তবে
আমরা ম্যাচটির জন্য খুব ভালো প্রস্তুতি নিয়েছি এবং সেই মানসিক প্রস্তুতি ধরে রাখার
চেষ্টা করছি।’
বর্তমান নরওয়েজিয়ান ফুটবলের সবচেয়ে বড় ও বৈশ্বিক বিজ্ঞাপন আর্লিং হালান্ড।
চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপেও নিজের চেনা ছন্দে থেকে ইতিমধ্যে পাঁচটি চোখ ধাঁধানো গোল করে
গোল্ডেন বুটের দৌড়ে কিলিয়ান এমবাপে ও লিওনেল মেসির ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন তিনি। মূলত
ইউরোপিয়ান অঞ্চলের বাছাইপর্বে তাঁর করা একের পর এক অবিশ্বাস্য গোলের ওপর ভর করেই
দীর্ঘ ২৮ বছরের খরা কাটিয়ে নরওয়ে আবার বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন
করেছে। এর আগে সর্বশেষ ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে খেলেছিল নরওয়ে, যেখানে তারা
গ্রুপ পর্বের ম্যাচে এই ব্রাজিলকেই ২-১ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছিল। দীর্ঘ দুই দশক
পর এবার নকআউটের ভিন্ন মঞ্চে সেই ঐতিহাসিক স্মৃতির পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারেন কি না
হালান্ড, তা দেখতে মুখিয়ে আছে পুরো ফুটবল বিশ্ব।





